কেকেআরকে হারিয়ে চমকে দিলেন নীতীশ কুমার রেড্ডি!
আইপিএলের মঞ্চে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার মিশনে নেমেছেন Nitish Kumar Reddy। আর সেই লক্ষ্যেই নাকি প্রতিযোগিতা শুরুর আগে নিয়েছিলেন এক সপ্তাহের বিশেষ প্রস্তুতি। তবে সেই প্রস্তুতির নেপথ্যের ‘গুরু’র নাম এখনই প্রকাশ করতে নারাজ এই তরুণ অলরাউন্ডার।
কেকেআরের বিরুদ্ধে অলরাউন্ড ঝলক
ইডেন গার্ডেন্সে Kolkata Knight Riders-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে নজর কেড়েছেন নীতীশ। ব্যাট হাতে ২৪ বলে ৩৯ রানের কার্যকরী ইনিংস, তার পর বল হাতে ১৭ রানে ২ উইকেট—পুরো ম্যাচেই তাঁর ছাপ স্পষ্ট।
তিনি আউট করেন Rinku Singh এবং Anukul Roy-কে, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
সাত দিনের ‘স্পেশাল ট্রেনিং’
ম্যাচের পর নীতীশ নিজেই জানিয়েছেন, গত মরসুমে চোটের কারণে ঠিক মতো প্রস্তুতি নিতে পারেননি। সেই অভাব এবার পূরণ করেছেন তিনি।
তাঁর কথায়,
“এ বার আমি প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছি। এক জনের কাছে এক সপ্তাহ বিশেষ অনুশীলন করেছি। সেই ট্রেনিং আমার অনেক উপকার করেছে।”
তবে সবচেয়ে বড় কৌতূহল—কার কাছে এই ট্রেনিং?
এই প্রশ্নের উত্তরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “এখনই বলব না, পরে জানাব।”
এই রহস্যই যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে আগ্রহ।
পিচ বুঝে খেলার কৌশল
নীতীশের পারফরম্যান্সের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল ম্যাচ রিডিং। তিনি জানান, ব্যাট করার সময়ই পিচের আচরণ বুঝে গিয়েছিলেন।
ইডেনের উইকেটে দু’ধরনের গতি ছিল—
- কিছু বল দ্রুত ব্যাটে আসছিল
- আবার কিছু বল ধীরে থেমে যাচ্ছিল
এই বৈচিত্র্য বুঝেই তিনি বোলিংয়ে গতি কমানোর কৌশল নেন। আর তাতেই আসে সাফল্য।
রিঙ্কু সিংহের উইকেটের প্রসঙ্গ টেনে নীতীশ বলেন, “বলটা একটু দ্রুতই পৌঁছে গিয়েছিল, তাই ওর ব্যাটের কানায় লাগে।”
শক্তি—স্লোয়ার বল
নীতীশের বোলিংয়ের অন্যতম বড় অস্ত্র তাঁর মন্থর গতির বল। কেকেআরের বিরুদ্ধে সেটাকেই কাজে লাগিয়েছেন তিনি।
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে ব্যাটাররা আগ্রাসী, সেখানে গতি পরিবর্তনের এই কৌশলই অনেক সময় ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়—যেমনটা দেখা গেল এই ম্যাচে।
জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য
শুধু আইপিএলে ভালো খেলা নয়, নীতীশের বড় লক্ষ্য ভারতীয় দলে নিজের জায়গা ফিরে পাওয়া। সেই কারণেই এই অতিরিক্ত প্রস্তুতি, সেই কারণেই এত মনোযোগ।
শোনা যাচ্ছে, কোচিং সেটআপে Gautam Gambhir-এর পরিকল্পনায় তিনি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন। তাই আইপিএলকেই বেছে নিয়েছেন নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মঞ্চ হিসেবে।
শেষ কথা
ক্রিকেটে অনেক সময় ছোট ছোট প্রস্তুতিই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। নীতীশ কুমার রেড্ডির ক্ষেত্রে সেই এক সপ্তাহের গোপন ট্রেনিং যেন ঠিক তেমনই কাজ করেছে।
এখন প্রশ্ন একটাই—
তিনি কি এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় দলে ফেরার দরজা খুলতে পারবেন?
যদি পারেন, তবে এই ‘গোপন প্রস্তুতি’র গল্পটাই হয়ে উঠতে পারে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
শেষ লড়াইয়ের গল্প: জল থেকে তোলার পরও বেঁচে ছিলেন রাহুল, তবু বাঁচানো গেল না