গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপান মোহিনী দে
সম্প্রতি এক চমকপ্রদ খবর সামনে এসেছে, যেখানে অস্কার বিজয়ী সুরকার এআর রহমান এবং তাঁর স্ত্রী সায়রা বানু ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবন শেষে আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু এই বিচ্ছেদের খবরের পর, আরও একটি বড় নাম আলোচনায় উঠে আসে—মোহিনী দে। রহমানের দলের সদস্য হিসেবে পরিচিত মোহিনী, যিনি একজন প্রতিভাবান বেসিস্ট, তাঁরও স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেছেন। এই সময়ের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারকা দম্পতিদের বিচ্ছেদ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
মোহিনী দে: একজন উজ্জ্বল প্রতিভা
মোহিনী দে, ২৮ বছর বয়সী এই বঙ্গতনয়া, মুম্বাইয়ে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর শিকড় অবশ্যম্ভাবীভাবে বাংলা। মাত্র ৯ বছর বয়সে প্রথম গিটার হাতে তুলে নেন তিনি এবং ১১ বছর বয়সেই শুরু করেন মঞ্চে পারফর্ম করা। মোহিনীর গিটার বাজানোর দক্ষতা দেখে তাঁর বাবা তাকে শিখতে উৎসাহিত করেন, এবং খুব তাড়াতাড়ি তাঁর প্রতিভা সবার নজরে আসে।
মোহিনী দে তার সঙ্গীত জীবন শুরু করেন জ্যাজ সঙ্গীতের কিংবদন্তি লুই ব্যাঙ্কসের কাছে পরামর্শ নিয়ে। পরে তিনি রহমানের সঙ্গীত দলের অংশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। রহমানের সঙ্গে বহু শোতে পারফর্ম করেছেন মোহিনী, এবং তাঁর অসাধারণ বেস গিটার বাজানোর দক্ষতায় শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন। তাঁর গিটার বাজানোর দক্ষতা কেবল ভারতেই নয়, আন্তর্জাতিক মঞ্চেও প্রশংসিত হয়েছে।
রহমান ও মোহিনীর বিচ্ছেদ: গুঞ্জন এবং বাস্তবতা
রহমান দম্পতির বিচ্ছেদের খবর প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে মোহিনী এবং তাঁর সঙ্গী মার্ক হার্টসুচও বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন। এই মুহূর্তে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, এবং একের পর এক কৌতূহল তৈরি হতে থাকে। অনেকেই মনে করছেন, রহমান ও মোহিনীর সম্পর্কের কারণে এই বিচ্ছেদ হতে পারে, যদিও মোহিনী এবং রহমান এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
মোহিনী তার ইনস্টাগ্রামে বিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘‘দীর্ঘ সময় ধরে চলা সম্পর্কের পর, আমাদের জীবনে নতুন পথ তৈরি করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’ তাঁর স্বামী, মার্ক হার্টসুচও একজন পেশাদার স্যাক্সোফোনিস্ট। দুই শিল্পীর বিচ্ছেদ নিয়ে প্রচুর আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু তাঁদের মুখে কোনও মন্তব্য আসেনি।
মোহিনী দে: আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক প্রতিভাবান শিল্পী
মোহিনী দে শুধু ভারতেই নয়, বিদেশের মঞ্চেও তাঁর নাম ছড়িয়ে দিয়েছে। স্টিভ ভাই, শিবমণি, উইলো স্মিথের মতো আন্তর্জাতিক তারকাদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করেছেন তিনি। ২০২৪ সালে উইলো স্মিথের সঙ্গে তাঁর ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পান, যা অনেক শিল্পীর জন্য এক বিরল সুযোগ। মোহিনী দে এখন সঙ্গীত শিল্পের এক জনপ্রিয় নাম, এবং তাঁর অনুরাগীদের সংখ্যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকাশছোঁয়া। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ৫ লাখেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে।
বিচ্ছেদের কারণ: বাস্তবতা কি?
রহমান এবং সায়রা বানুর বিচ্ছেদ সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, দীর্ঘ তিক্ততার পর তাঁরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের আইনজীবী জানিয়েছেন, এই বিচ্ছেদ পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে হয়েছে, এবং তাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে। সায়রা এবং রহমান নিজেদের বিবাহিত জীবন শেষ করলেও একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান বজায় রাখবেন। মোহিনী দে এবং তাঁর স্বামী মার্কের বিচ্ছেদ সম্পর্কে একই বক্তব্য এসেছে।
এভাবে, একে একে সম্পর্কের জটিলতার মধ্যে, মোহিনী দে নিজের সঙ্গীত জীবন এবং বিচ্ছেদ নিয়ে আরও বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন। তাঁর ক্যারিয়ারের উজ্জ্বল দিকগুলি এবং ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ কিছু বাঁক এসেছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও আলোচনায় থাকতে পারে।