গাজীপুরে তপ্ত পরিস্থিতি!
\শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ছ’মাস পর আবারও উত্তপ্ত বাংলাদেশের রাজনীতি। ধানমন্ডির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু গাজীপুর। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, হামলা-পাল্টা হামলা আর গুলির আওয়াজে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাংলাদেশ পুলিশ ‘ডেভিল হান্ট’ নামে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে, আর এ পর্যন্ত ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, আটককৃতরা হাসিনার আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং তারা দেশের ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসনব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
গাজীপুরের ঘটনার সূত্রপাত ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন আক্রমণের পর। একদল বিক্ষোভকারী এই ঐতিহাসিক ভবনটিকে ভেঙে ফেলে, যা মুহূর্তের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয় গোটা দেশে। বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে থাকে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয় যখন গাজীপুরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে সংঘর্ষ বাধে, এবং এতে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী, এবং গুরুতর আহতদের ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর নেতারা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শুক্রবার রাতে তারা ডাকাতির খবর পেয়ে মন্ত্রীর বাড়ির সামনে গিয়ে হামলা চালায়। যদিও ছাত্র সংগঠনের দাবি, তারা ডাকাতি ঠেকাতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশ এবং স্থানীয়দের আক্রমণের শিকার হন। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। ঘটনার জেরে গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন, এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভরত ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেয়। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ‘ডেভিল হান্ট’ নামের বিশেষ অভিযান শুরুর ঘোষণা আসে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা’ ব্যক্তিদের গ্রেফতার করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “যারা অরাজকতা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
গাজীপুরের সংঘাতের পর সেখানে এক ধরনের নীরব আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ‘প্রথম আলো’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়ির আশপাশের ৪০-৫০টি বাড়ি তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন, এবং ডাকাডাকি করেও বহু বাড়ি থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। সরকারের কঠোর মনোভাব এবং বিরোধী পক্ষের বিক্ষোভ—এই দুইয়ের সংঘাতে দেশ নতুন সংকটের মুখোমুখি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযান আসলেই অস্থিতিশীলতা কমাবে, নাকি রাজনৈতিক দমনপীড়নের নতুন রূপ হয়ে উঠবে?
সুরের রাজ্যে চুরি! প্রীতমের স্টুডিয়ো থেকে উধাও ৪০ লক্ষ টাকা