গাওকাও-এ ৭০০!
চিনের সবচেয়ে কঠিন প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘গাওকাও’-এ ৭৫০-র মধ্যে ৭০০ নম্বর। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানের তিনটি উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি। তবুও আজ জীবিকা নির্বাহের জন্য সিঙ্গাপুরে খাবার সরবরাহের কাজ করছেন ৩৯ বছরের ডিং ইউয়ানঝাও। তাঁর জীবনকাহিনি শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়, বরং চিনের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বাস্তবতার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।5
ফুজিয়ান প্রদেশের বাসিন্দা ডিং গাওকাও পরীক্ষায় অসাধারণ ফল করে চিনের অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন নিয়ে পড়ার সুযোগ পান। পরে পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর, University of Oxford থেকে জীববৈচিত্র বিষয়ে মাস্টার্স এবং Nanyang Technological University থেকে জীববিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
এরপর তিনি National University of Singapore-এ পোস্টডক্টরাল গবেষক হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু ২০২৩ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় চাকরি খুঁজেও সফল হননি। একাধিক সাক্ষাৎকার দিয়েও উপযুক্ত কাজ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরে ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে সপ্তাহে প্রায় ৭০০ সিঙ্গাপুর ডলার আয় করেন তিনি।
ডিং সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, কাজটি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে না মিললেও এটি স্থিতিশীল আয়ের সুযোগ দিয়েছে। পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন এবং নিয়মিত সাইকেল চালানোর কারণে শারীরিকভাবেও ফিট থাকছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডিংয়ের ঘটনা চিনের চাকরির বাজারের একটি বড় সংকটকে সামনে এনেছে। উচ্চশিক্ষিত এবং গবেষণায় দক্ষ প্রার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও সেই তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ তৈরি হয়নি। ফলে বহু পিএইচডিধারী বা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদেরও বিকল্প পেশা বেছে নিতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যানও সেই ছবিই তুলে ধরছে। ২০২৫ সালের জাতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রায় ২৮.৩ লক্ষ প্রার্থী মাত্র ৩৮,১০০টি পদের জন্য আবেদন করেছিলেন। অর্থাৎ একটি পদের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৯৮ জন প্রতিযোগী ছিলেন। ২০২৬ সালে আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বেড়েছে, অথচ পদের সংখ্যা কমেছে।
অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণও গত কয়েক দশকে বহুগুণ বেড়েছে। ১৯৮৮ সালে যেখানে মোট জনসংখ্যার ৪ শতাংশেরও কম উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করতেন, ২০২৩ সালের মধ্যে সেই হার ৬০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়। কিন্তু একই হারে উচ্চ বেতনের বা স্থায়ী চাকরির সুযোগ তৈরি হয়নি।
চিনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শহরাঞ্চলে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি (শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে) তরুণদের বেকারত্বের হার মে মাসে ১৪.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ডিং ইউয়ানঝাওয়ের মতো উচ্চশিক্ষিত তরুণদের বিকল্প পেশায় যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনা এখন আর ব্যতিক্রম নয়; বরং তা আধুনিক চাকরির বাজারের এক গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা হয়ে উঠছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?