‘গলা শুকিয়ে মুখ বেঁকে যেত’, বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপে ভুগেছেন চহাল, ২৬ দিন ছিলেন রিহ্যাবে

বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপে ভুগেছেন চহাল! বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যুজবেন্দ্র চহাল। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েনের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ক্রিকেটেও। উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই…

October 16, 2026
1 min read

বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক চাপে ভুগেছেন চহাল!

বিবাহবিচ্ছেদের পর মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন যুজবেন্দ্র চহাল। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপড়েনের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ক্রিকেটেও। উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে একটি রিহ্যাব কেন্দ্রে ২৬ দিন কাটিয়েছিলেন ভারতের এই লেগ স্পিনার। প্রাক্তন ক্রিকেটার আকাশ চোপড়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।

নেটপ্রভাবী ধনশ্রী বর্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর বেশ কিছু দিন ক্রিকেট থেকে দূরে ছিলেন চহাল। তাঁর কথায়, ব্যক্তিগত জীবনের পরিস্থিতি নিয়ে সমাজমাধ্যমে নানা মন্তব্য ও সমালোচনা তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিল। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত থাকায় ২০২৪-২৫ মরশুমে হরিয়ানার হয়ে সাদা বলের মাত্র দু’টি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এর পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকেও বিরতি নেন।

চহাল বলেন, “কেউ খ্যাতনামী হলে তাঁর জীবনের প্রতিটি ঘটনাতেই সাধারণ মানুষ মতামত দেওয়ার অধিকার পেয়ে যায়। ওই পরিস্থিতিটা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিত। আমার ক্রিকেটেরও ক্ষতি করেছে।”

তিনি জানান, একা থাকতে থাকতে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। সেই সময় প্যানিক অ্যাটাকও শুরু হয়। শারীরিক ভাবে কী ধরনের সমস্যা হত, তা জানাতে গিয়ে চহাল বলেন, “আমার মুখের আকার বদলে যেত। গলা শুকিয়ে যেত। ঠোঁট শক্ত হয়ে এক দিকে বেঁকে যেত। কথা বলতে পারতাম না।” এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝিয়েছিল, উদ্বেগ একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে।

মদ্যপানের অভ্যাস ছাড়তে রিহ্যাবে চহাল

বিবাহবিচ্ছেদের মানসিক ধাক্কা সামলাতে গিয়ে মদ্যপানের দিকে ঝুঁকেছিলেন চহাল। পরে সেই অভ্যাস মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বুঝতে পেরে নিজেই সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কাউন্টি ক্রিকেট খেলে ইংল্যান্ড থেকে ফেরার পর পরিস্থিতি সামলাতে একটি রিহ্যাব কেন্দ্রে ভর্তি হন তিনি। সেখানে টানা ২৬ দিন ছিলেন।

চহালের কথায়, ওই সময়টা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে সাহায্য করেছিল। ধীরে ধীরে ভারসাম্য ফিরে পান এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ বন্ধ করেন। পরের আইপিএলে নিজেকে অনেক বেশি চনমনে মনে হয়েছিল তাঁর। অনুশীলন, ট্রেনিং কিংবা জিম— কোনও কিছুতেই আগের মতো ক্লান্তি অনুভব করতেন না বলে জানিয়েছেন তিনি।

ডিভিলিয়ার্সের পরামর্শে নতুন করে শুরু

কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ক্রিকেটার এবি ডিভিলিয়ার্সের একটি পরামর্শও মনে রেখেছিলেন চহাল। তাঁর কথায়, ডিভিলিয়ার্স তাঁকে জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব বুঝিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার কারণে ক্রিকেটের মতো প্রিয় বিষয়টিকেও হারিয়ে ফেলতে পারেন, এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে।

সমাজমাধ্যমের সমালোচনা নিয়েও এখন আর বেশি ভাবতে চান না চহাল। তাঁর বক্তব্য, সেখানে সবাইকে চুপ করানো সম্ভব নয়। তাই নিজের কাজেই মন দিতে চান তিনি।

২০২৫ সালের আইপিএলে পঞ্জাব কিংস তাঁকে ১৮ কোটি টাকায় দলে নিয়েছিল। সেই আস্থার মর্যাদা দিতে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন বলে জানিয়েছেন চহাল। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁর মনে হয়েছিল, এখনও সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেট খেলার ক্ষমতা রয়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় পেরিয়ে ক্রিকেটে মন ফেরানোর এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে চহাল বুঝিয়েছেন, মানসিক চাপকে উপেক্ষা না করে প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য নেওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *