গরম ভাতে ঘি কেন এত জনপ্রিয়?
গরম ভাতের সঙ্গে এক চামচ ঘি, তার সঙ্গে সামান্য নুন আর একটি কাঁচা লঙ্কা—বাঙালির কাছে এই খাবারের আলাদা আবেগ রয়েছে। অনেকেরই আবার তরকারির প্রয়োজন হয় না। তবে শুধু স্বাদের জন্যই কি গরম ভাতে ঘি খাওয়ার এই পুরনো অভ্যাস? বিজ্ঞান বলছে, এর পিছনে কিছু শারীরবৃত্তীয় কারণও থাকতে পারে।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে কি সাহায্য করে?
ভাতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি। খাবারের সঙ্গে ফ্যাট থাকলে পাকস্থলী থেকে খাবার বেরোনোর গতি কিছুটা ধীর হতে পারে এবং কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ভাতের সঙ্গে পরিমিত ঘি খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
একটি ছোট গবেষণায় টাইপ-২ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ১০৩ জনকে তিন মাস ধরে ঘি-সহ সাদা ভাত খাওয়ানোর পর HbA1c-এর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। গবেষণায় অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর HbA1c কমেছিল বলে দাবি করা হয়। তবে এই ফলকে ঘি ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ করে—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। গবেষণাটির আকার ও পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ঘিয়ের ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা
ঘিতে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এর মধ্যে বুটিরিক অ্যাসিড উল্লেখযোগ্য। অন্ত্রে তৈরি বুটিরেট বৃহদন্ত্রের কোষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে। তবে ঘি খাওয়ার মাধ্যমে পাওয়া বুটিরিক অ্যাসিডের পরিমাণ এবং তার স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ভিটামিন শোষণে সাহায্য করতে পারে
ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে হল ফ্যাট-দ্রবণীয় ভিটামিন। অর্থাৎ খাবারে কিছুটা ফ্যাট থাকলে শরীর এগুলি শোষণ ও ব্যবহার করতে সুবিধা পেতে পারে। তাই ভাতের সঙ্গে ঘি এবং শাকসব্জি—যেমন পালংশাক, গাজর বা কুমড়ো—খেলে সেই খাবারে থাকা ফ্যাট-দ্রবণীয় পুষ্টি শরীরের কাজে লাগার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে।
শুধু পুষ্টি নয়, স্বাদও গুরুত্বপূর্ণ
ঘিয়ের নিজস্ব সুগন্ধ এবং স্বাদ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়ায়। একটি খাবার তৃপ্তিদায়ক হলে অনেকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমতেও পারে। তবে ঘি যোগ করলেই ওজন নিয়ন্ত্রণ হবে, এমনটা বলা যায় না—কারণ ঘি নিজেই ক্যালরি-সমৃদ্ধ।
প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসাতেও ঘির উল্লেখ
আয়ুর্বেদে বহুদিন ধরেই ঘিকে খাদ্য ও চিকিৎসার বিভিন্ন প্রসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেধা, চোখ ও শরীরের নানা উপকারের কথাও প্রাচীন গ্রন্থে পাওয়া যায়। তবে এই দাবিগুলির সবক’টির পক্ষে আধুনিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সমান শক্তিশালী নয়। তাই ঐতিহ্যগত বিশ্বাস এবং বৈজ্ঞানিক প্রমাণকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
তাহলে কতটা ঘি খাবেন?
ঘি উপকারী হতে পারে বলেই বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। এটি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালরির উৎস। তাই সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরিমিত পরিমাণে ঘি খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
অর্থাৎ, গরম ভাতে এক চামচ ঘি খাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি কিছু সম্ভাব্য পুষ্টিগত সুবিধাও রয়েছে। তবে ঘিকে কোনও রোগের ওষুধ হিসেবে দেখার বদলে সুষম খাদ্যতালিকার একটি অংশ হিসাবেই দেখা উচিত।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।