গন্ধ ঠিক থাকলেই নিরাপদ নয়! ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার কত দিন খাওয়া যায়, জানুন সঠিক নিয়ম

গন্ধ ঠিক থাকলেই নিরাপদ নয়!! রবিবারের বিরিয়ানি, আগের দিনের মাছের ঝোল বা অতিরিক্ত রান্না হওয়া ডাল— খাবার বেঁচে গেলে বেশির ভাগ বাড়িতেই তা ফ্রিজে তুলে রাখা হয়। পরে গরম করে…

July 6, 2026
0 min read

গন্ধ ঠিক থাকলেই নিরাপদ নয়!!

রবিবারের বিরিয়ানি, আগের দিনের মাছের ঝোল বা অতিরিক্ত রান্না হওয়া ডাল— খাবার বেঁচে গেলে বেশির ভাগ বাড়িতেই তা ফ্রিজে তুলে রাখা হয়। পরে গরম করে খেয়ে নেওয়াই অভ্যাস। কিন্তু ফ্রিজে রাখলেই কি খাবার দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হল— না।

ফ্রিজ খাবার নষ্ট হওয়ার গতি কমিয়ে দেয় ঠিকই, কিন্তু তা অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পুষ্টিগুণ কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে এমন ব্যাকটেরিয়াও জন্মাতে পারে, যা খাবারের গন্ধ, রং বা স্বাদে কোনও পরিবর্তন না আনলেও শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই শুধু গন্ধ শুঁকে বা দেখে খাবার নিরাপদ ভেবে খেয়ে নেওয়া ঠিক নয়।

সাধারণভাবে ঘরে রান্না করা ভাত, ডাল, তরকারি, মাছ বা মাংস ফ্রিজে ৩ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত রাখা নিরাপদ বলে মনে করা হয়। এর বেশি সময় পেরিয়ে গেলে খাবার দেখতে ঠিকঠাক লাগলেও তা না খাওয়াই ভালো।

খাবার সংরক্ষণে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চললে খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

প্রথমত, রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় ফেলে রাখা উচিত নয়। সম্ভব হলে রান্নার দুই ঘণ্টার মধ্যেই খাবার ঠান্ডা করে ফ্রিজে তুলে রাখুন। গরমের দিনে আরও দ্রুত ফ্রিজে রাখা ভালো।

দ্বিতীয়ত, সব সময় পরিষ্কার ও বায়ুনিরোধী পাত্র ব্যবহার করুন। এতে খাবার দীর্ঘ সময় ভালো থাকে এবং অন্য খাবারের গন্ধও মিশে যায় না।

তৃতীয়ত, নতুন রান্না করা খাবারের সঙ্গে পুরনো খাবার একই পাত্রে রাখবেন না। এতে দূষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চতুর্থত, ফ্রিজ অতিরিক্ত ভর্তি করে রাখবেন না। পর্যাপ্ত ঠান্ডা বাতাস চলাচল না করলে সব খাবার সমানভাবে ঠান্ডা থাকে না এবং দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

এ ছাড়া খাবারের রং, গন্ধ, স্বাদ বা গঠনে সামান্য পরিবর্তন হলেও সেটি ফেলে দেওয়াই নিরাপদ। সন্দেহ হলে খাবার না খাওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একই খাবার বারবার ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করে আবার ঠান্ডা করে রেখে দেওয়া ঠিক নয়। এতে জীবাণু বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বরং ছোট ছোট পাত্রে ভাগ করে রাখুন। যতটা প্রয়োজন, ততটাই বের করে গরম করুন।

যদি মনে হয় কয়েক দিনের মধ্যে খাবার শেষ করা সম্ভব হবে না, তবে ফ্রিজারের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। তবে ফ্রিজারেও খাবার অনির্দিষ্টকাল ভালো থাকে না। তাই সংরক্ষণের সময় লিখে রাখা অভ্যাস করলে সুবিধা হবে।

মনে রাখবেন, ফ্রিজ খাবারকে নিরাপদ রাখার একটি উপায় মাত্র, জাদুকাঠি নয়। সঠিক সময়ে সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খেয়ে ফেলা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই খাদ্যবাহিত অসুস্থতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *