শুভমনকে পাশে নিয়ে রহস্য ফাঁস করলেন কোহলি!
ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে প্রথম এক দিনের ম্যাচে একই সঙ্গে শতরান করেছেন বিরাট কোহলি এবং শুভমন গিল। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫১ রানের জুটিও গড়েছেন তাঁরা। ম্যাচের পর নিজেদের সেই বোঝাপড়া এবং ক্রিজ়ে একসঙ্গে ব্যাট করার সময় কী নিয়ে কথা হয়, তা জানালেন দুই তারকা।
শুভমন ১০৮ বলে ১১০ রান করে আউট হন। অন্য দিকে কোহলি ৮৮ বলে ১৩৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচের পর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশ করা ভিডিয়োয় দু’জনকে নিজেদের জুটি নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
আলাপের শুরুতেই মজা করে শুভমনকে আগে কথা বলতে বলেন কোহলি। শুভমন জানান, এক দিনের ক্রিকেটে কোহলির সঙ্গে এটি তাঁর দ্বিতীয় শতাধিক রানের জুটি। দু’বারই দু’জনের ব্যাট থেকে শতরান এসেছে। একই সঙ্গে কোহলির ১৫ হাজার এক দিনের রান পূর্ণ করার মুহূর্তটি সামনে থেকে দেখার কথাও বলেন ভারতীয় অধিনায়ক।
নিজের মাইলফলক নিয়ে কোহলির বক্তব্য, ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান দেখতে ভাল লাগলেও তাঁর আসল লক্ষ্য বরাবরই দলকে জেতানো। কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে জেতানোর চেষ্টা করেই এত বছর খেলেছেন বলে জানান তিনি।
এর পর শুভমন বলেন, কোহলিকে দেখে এবং তাঁর খেলা অনুসরণ করেই অনেক কিছু শিখেছেন। এখন তাঁর সঙ্গে একই ক্রিজ়ে সেই মুহূর্তগুলি ভাগ করে নিতে পারা তাঁর কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা। শুভমনের এই কথার জবাবে কোহলি বলেন, দীর্ঘ দিন খেলতে হলে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের পিছনে না ছুটে দলের জয়ের লক্ষ্যেই মন দেওয়া উচিত।
কোহলির কথায়, শুধু রেকর্ডের জন্য দীর্ঘ দিন খেলা যায় না। বরং দলকে জেতানোর চেষ্টা করতে করতে মাইলফলকগুলি নিজের থেকেই আসে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ১৫ হাজার রান পূর্ণ করার দিন ভারত জেতায় তাঁর আনন্দ আরও বেড়েছে।
শুভমনও কোহলির বর্তমান ছন্দের প্রশংসা করেন। তাঁর মতে, কোহলি এখনও ক্রিকেটকে যে ভাবে উপভোগ করছেন এবং মাঠে কিছু করার যে তাগিদ দেখাচ্ছেন, তা অনুপ্রেরণার। জবাবে কোহলি জানান, শুভমন ভারতীয় দলে আসার আগেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় ছিল। সেই কারণেই দলের মধ্যে তাঁদের বোঝাপড়াও সহজ হয়েছে।
তবে প্রশ্ন উঠতেই পারে, একসঙ্গে ব্যাট করার সময় আসলে কী নিয়ে কথা বলেন তাঁরা?
কোহলির উত্তর, “আমরা ম্যাচ নিয়ে খুব একটা কথা বলি না। এটা-ওটা নিয়ে কথা হতে থাকে। কারণ আমাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা বুঝি কখন, কী করা দরকার।”
কখনও শুভমন আক্রমণাত্মক ভাবে শট খেলতে গেলে তাঁকে সতর্ক করেন বলেও জানান কোহলি। তবে ব্যাটিংয়ের সময় অযথা বেশি পরামর্শ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে তাঁর মত। কারণ শুভমন নিজেই জানেন কী করতে হবে এবং তিনি অত্যন্ত দক্ষ ব্যাটার।
কোহলি আরও জানান, ফিল্ডিংয়ের সময় অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। অধিনায়কের কিছু মুহূর্তে পরামর্শের প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে চাপের পরিস্থিতিতে। কিন্তু ব্যাটিংয়ের সময় দু’জনের বোঝাপড়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শুভমনের নেতৃত্ব নিয়েও কথা বলেন কোহলি। তাঁর মতে, দলে সিনিয়র এবং অধিনায়করা যদি স্বাভাবিক ও হাসিখুশি থাকেন, তা হলে বাকিরাও চাপমুক্ত থাকতে পারেন। কঠিন ম্যাচেও তাই তাঁরা নিজেদের চাপে না ফেলে ক্রিকেট উপভোগ করার চেষ্টা করেন। পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই স্বাভাবিক পরিবেশে খেলাটাই তাঁদের লক্ষ্য।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।