ক্যাফের কাছে বচসা, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে প্রেমিকাকে হত্যার অভিযোগ!
উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মৃত্যুর রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মৃতার পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অভিযোগ, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকেই ওই মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনায় তাঁর ঘনিষ্ঠ পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার অশোকনগরের গুমা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের তাজপুর এলাকায় একটি ক্যাফের পাশের হাঁটুজল থাকা জলাশয় থেকে মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। পরে পুলিশ জানতে পারে, মৃতার নাম রিঙ্কু দাস। তিনি কল্যাণগড় বাজার এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে অশোকনগরের একটি ভাড়াবাড়িতে থাকতেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ স্থানীয় সূত্র থেকে কুতুবুদ্দিন দফাদার নামে এক ব্যক্তির নাম জানতে পারে। তদন্তকারীদের দাবি, গত সাত-আট বছর ধরে রিঙ্কুর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাজপুর এলাকায় তাঁদের একাধিক বার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল বলেও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়। সেই সূত্র ধরেই কুতুবুদ্দিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জেরায় উঠে এসেছে যে গত ৩ জুলাই অথবা তার পরের কোনও এক রাতে অশোকনগরের একটি নির্জন রাস্তায় রিঙ্কুর সঙ্গে অভিযুক্তের দেখা হয়। সেখানে দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় রিঙ্কুর গলায় থাকা ওড়না দিয়েই তাঁর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহটি কাছের জলাশয়ে ফেলে রেখে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, রিঙ্কু স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন। তাঁদের দাম্পত্য সম্পর্কে অশান্তির জেরেই তিনি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করেছিলেন। কুতুবুদ্দিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের প্রকৃতি, হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ঘটনার আগে কী নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তকারীদের আশা, হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ সামনে আসবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সাক্ষীদের বয়ান মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তবে তদন্তকারীদের দাবি, সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখেই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?