‘ভাইফোঁটা’ বিতর্কে ক্ষোভ উগরে দিলেন অপরাজিতা!
প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে ‘ভাইফোঁটা’ দেওয়ার পুরনো ছবি ও ভিডিও নতুন করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। অনেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণেই শিল্পীরা এমন সম্পর্ক বজায় রাখতেন। তবে সেই অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর বক্তব্য, এটি কোনও লাভ বা কাজ পাওয়ার সম্পর্ক নয়, বরং সামাজিক সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।
এক ভিডিওবার্তায় অপরাজিতা বলেন, যদি সত্যিই মন্ত্রীদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার মাধ্যমে কাজ পাওয়া যেত, তবে দীর্ঘদিন ধরে সাংসদ থাকা অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ই সব ছবির নায়িকা হতেন। বাস্তব পরিস্থিতি যে তা নয়, সেটাই এই অভিযোগের অসারতা প্রমাণ করে বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, ছোটবেলা থেকেই তিনি শিখেছেন আমন্ত্রণকে সম্মান জানাতে এবং সম্পর্কের মধ্যে সৌজন্য বজায় রাখতে। কোনও রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী বা বিশিষ্ট ব্যক্তি অনুষ্ঠানে ডাকলে সেখানে উপস্থিত হওয়া মানেই তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শকে সমর্থন করা নয়। তিনি বলেন, সমাজে ভদ্রতা ও সৌজন্যের যে সংস্কৃতি ছিল, তা ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে। এখন অনেকেই সম্পর্ক বা সামাজিক আচরণের পেছনে অন্য উদ্দেশ্য খুঁজতে ব্যস্ত।
এই প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজয়া সম্মিলনীর উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে বহু বিশিষ্ট শিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অংশ নিতেন। তাঁদের অনেকেরই নতুন করে কিছু পাওয়ার ছিল না। তাঁরা গিয়েছিলেন শুধুমাত্র সম্মান ও সৌজন্যের খাতিরে। তাই কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া বা কাউকে প্রণাম করার অর্থ রাজনৈতিক আনুগত্য নয় বলেই তাঁর মত।
অপরাজিতা আরও জানান, ভবিষ্যতেও যদি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কেউ তাঁকে আমন্ত্রণ জানান, তিনি একই ভাবে যাবেন। কারণ, তাঁর কাছে এটিই ভদ্রতা ও সামাজিক আচরণের স্বাভাবিক নিয়ম।
অভিনেত্রীর ক্ষোভের আরেকটি কারণ, সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে হওয়া কটূক্তি ও ব্যক্তিগত আক্রমণ। তিনি মনে করেন, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের লক্ষ্য করে সহজেই মন্তব্য করা হয়, কিন্তু তাঁদের বাস্তব পরিস্থিতি বা অবস্থান বোঝার চেষ্টা খুব কম মানুষই করেন।
নিজের কর্মজীবনের উদাহরণ টেনে অপরাজিতা বলেন, তিনি বর্তমানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনীভিত্তিক ছবি ‘দাদা’-তে অভিনয় করছেন ঠিকই, কিন্তু তার আগে দীর্ঘ ছয় মাস তাঁর হাতে কোনও কাজ ছিল না। যদি রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতাই কাজ পাওয়ার একমাত্র উপায় হতো, তবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকে হতে হতো না।
একই সঙ্গে টলিউডের তথাকথিত ‘ব্যান সংস্কৃতি’ এবং বিভিন্ন অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি অতীতে বহুবার সরব হয়েছেন বলে দাবি করেন। তবে সেই প্রতিবাদ বা বক্তব্য অনেক সময় প্রচারের আলো পায়নি। তাঁর আক্ষেপ, দীর্ঘ সাক্ষাৎকার বা যুক্তিপূর্ণ বক্তব্যের চেয়ে ছোট ভিডিও ক্লিপ বা বিতর্কিত অংশই বেশি ছড়িয়ে পড়ে, আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ভুল ধারণা।
সব মিলিয়ে, ‘ভাইফোঁটা’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে অপরাজিতার স্পষ্ট বার্তা— সামাজিক সৌজন্যকে রাজনৈতিক সুবিধা বা ব্যক্তিগত স্বার্থের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা আর রাজনৈতিক সমর্থন করা এক বিষয় নয়, এই পার্থক্য বোঝার আহ্বানই জানিয়েছেন তিনি।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?