কর্পোরেট জীবনের নিরাপত্তা ছেড়ে রাজনীতিতে আলিফার যাত্রা: বাবার স্বপ্ন পূরণে নতুন পথচলা

কর্পোরেট জীবনের নিরাপত্তা ছেড়ে রাজনীতিতে আলিফার যাত্রা! নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন আলো ছড়াচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী আলিফা আহমেদ। কর্পোরেট দুনিয়ার নিশ্চিন্ত চাকরি, আর্থিক সচ্ছলতা ছেড়ে হঠাৎ করেই রাজনীতির…

June 6, 2025
1 min read

কর্পোরেট জীবনের নিরাপত্তা ছেড়ে রাজনীতিতে আলিফার যাত্রা!

নদিয়ার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক মঞ্চে নতুন আলো ছড়াচ্ছেন তৃণমূলের প্রার্থী আলিফা আহমেদ। কর্পোরেট দুনিয়ার নিশ্চিন্ত চাকরি, আর্থিক সচ্ছলতা ছেড়ে হঠাৎ করেই রাজনীতির অজানা পথ বেছে নেওয়ার পেছনে যে কারণ, সেটি নিজের মুখেই জানালেন আলিফা। তাঁর বাবা ও ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদের প্রয়াণের পর তার অসমাপ্ত স্বপ্ন ও কালীগঞ্জের মানুষের জন্য দায়বদ্ধতা ছিল এই সিদ্ধান্তের মূল চালিকা শক্তি।

আগামী ১৯ জুন কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে আগেই। ওই দিন ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ২৩ জুন ফলাফল প্রকাশ পাবে। এই কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন আলিফা, যিনি এখন এলাকার মানুষের কাছে ‘নিজেদের মেয়ে’ হিসেবে পরিচিত হতে চাইছেন। সম্প্রতি মীরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক দলীয় অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে বলেছিলেন, “আমি আপনাদের মেয়ে। আপনাদের সেবা করতেই এসেছি।” এই কথাগুলোতে তাঁর অন্তরের জনসেবার দৃঢ় সংকল্প ফুটে উঠেছে।

কর্পোরেট কর্মজীবন ছেড়ে রাজনীতিতে আসার কারণ সম্পর্কে আলিফা স্পষ্ট করে বলেন, “অনেকে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছেন সফল চাকরি ছেড়ে কেন রাজনীতিতে এলাম। সহকর্মীরাও প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু বাবার মৃত্যু আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে তাঁর স্বপ্ন পূরণের জন্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ আর কালীগঞ্জের মানুষের ডাক শুনে আমি রাজনীতির এই পথে পা রেখেছি।” তিনি জানালেন, জনসেবার দায়িত্ববোধ থেকেই এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন।

আলিফার পরিকল্পনায় রয়েছে তাঁর বাবার হাতে শুরু হওয়া উন্নয়নমূলক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া। বৃহস্পতিবার একটি জনসভায় তিনি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’র প্রশংসা করেন এবং এগুলোকে নারীদের ক্ষমতায়নের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এই প্রকল্পগুলো নারীদের আর্থিক সাহায্যের এক অমূল্য সোপান। প্রত্যেক নারীই এর মূল্য বোঝে।”

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিজেপি ও কংগ্রেস-বামের বিরুদ্ধেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন আলিফা। তিনি বলেন, “বিজেপি মানুষের জীবনকে কোনো মূল্য দেয় না। মণিপুরে যা ঘটেছে, সবাই দেখেছে। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে মহিলারা অত্যাচারিত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সরকার নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দেয়। যারা কংগ্রেস বা বামেদের ভোট দেবেন, তারা প্রকৃতপক্ষে বিজেপিকেই সাহায্য করছেন। ভোট নষ্ট করবেন না। আমাকে আশীর্বাদ করুন, যাতে আপনাদের জন্য কাজ করতে পারি।”

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কালীগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন আলিফা, যেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে মিশে জনসেবার আরও দৃঢ় ইচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

রাজনীতির জটিলতায় প্রবেশ করা মানেই ঝুঁকি মেনে নেওয়া, আর সেই ঝুঁকি নিয়েই এখন নতুন আত্মবিশ্বাসে কালীগঞ্জের মানুষের কাছে নিজের জায়গা করে নিচ্ছেন আলিফা আহমেদ। কর্পোরেট জীবনের সুবিধা-অসুবিধা ছেড়ে যিনি এখন জনতার পক্ষে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তিনি নিঃসন্দেহে এক নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা করেছেন।

বর্ষার আগেই বাইরে রাখা আসবাব ভালো রাখার ৫ সহজ উপায়

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *