ওড়িশার মাটির নিচে ‘কুবেরের ভান্ডার’!
ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ওড়িশার মাটির নিচে লুকিয়ে আছে বিশাল স্বর্ণভান্ডার— এমন দাবিতে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের একাধিক জেলায় বিপুল পরিমাণ সোনা মজুত রয়েছে এবং এটি উত্তোলন করা সম্ভব হলে ওড়িশার অর্থনীতি রাতারাতি বদলে যেতে পারে।
সম্প্রতি ওড়িশার খনিমন্ত্রী বিভূতি জেনা জানিয়েছেন যে, সুন্দরগড়, নবরঙ্গপুর, কেওনঝড় এবং দেওগড়-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় প্রচুর সোনার মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষত দেওগড় জেলার আদাসা-রামপল্লি অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি সোনার খনি থাকার সম্ভাবনা।
সোনার সন্ধানে জোরকদমে অভিযান!
ওড়িশা সরকার বর্তমানে ভারতীয় ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (GSI) এবং ওড়িশা মাইনিং কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে এই খনির সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু দেওগড় নয়, মালকানগিরি, সম্বলপুর, জশিপুর, সুরিয়াগুড়া, রুয়ানসি, ইদেলকুচা, মারেডিহি, সুলেইপাত এবং বাদামপাহাড়েও সোনার সন্ধানে গবেষণা চলছে।
প্রাথমিক সমীক্ষার তথ্য ইতিবাচক, যার ভিত্তিতে ওড়িশা সরকার সোনার খনির ব্লক নিলামে তোলার পরিকল্পনা করছে। সূত্রের খবর, দেওগড়ের একটি সোনার খনির ব্লক নিলামের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে।
‘স্বর্ণযুগ’ ফিরবে ওড়িশায়?
প্রাচীনকাল থেকেই ওড়িশা তার খনিজ সম্পদের জন্য পরিচিত। এবার যদি এই স্বর্ণখনিগুলি সত্যিই কার্যকরভাবে উত্তোলন করা যায়, তাহলে—
✅ রাজ্যের অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে
✅ হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে
✅ দেশীয় সোনার উৎপাদন বাড়বে, আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে
✅ বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়বে এবং রাজ্যে শিল্পের প্রসার ঘটবে
বর্তমানে, সোনার বাজার অত্যন্ত চড়া এবং বিশ্বব্যাপী এর চাহিদাও বাড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই বিশাল স্বর্ণখনি আবিষ্কারের ফলে ওড়িশা খুব দ্রুত ভারতের অন্যতম ধনী রাজ্যে পরিণত হতে পারে।
ভারতে সোনার অবস্থান ও ওড়িশার ভবিষ্যৎ
জাতীয় খনিজ তালিকা (NMI)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট ৫০১৮.৪ লক্ষ টন সোনার আকরিক রয়েছে। বর্তমানে, ভারতের সবচেয়ে বেশি সোনার মজুত রয়েছে—
🏆 বিহারে (৪৪%)
🥈 রাজস্থানে (২৫%)
🥉 কর্ণাটকে (২১%)
পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডেও কিছু পরিমাণ সোনা রয়েছে। তবে ওড়িশার নতুন এই আবিষ্কার ভারতীয় স্বর্ণখনি মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনতে পারে।
সোনার আমদানি কমবে, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে
ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করে, যার প্রধান ব্যবহার গয়না শিল্পে। এছাড়াও, ইলেকট্রনিক্স এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সোনার গুরুত্ব রয়েছে। যদি ওড়িশার সোনা উত্তোলন শুরু হয়, তাহলে—
💰 সোনার আমদানি কমবে
💰 বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বাড়বে
💰 ভারতীয় অর্থনীতি আরও স্বনির্ভর হবে
সম্প্রতি, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) বিপুল পরিমাণ সোনা কিনছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৭০৮৯ কোটি ডলার। ফলে, ওড়িশার এই স্বর্ণখনি আবিষ্কার ভারতের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক আশীর্বাদ হতে পারে।
কতটা সোনা লুকিয়ে আছে ওড়িশার মাটির নিচে?
এখনো পর্যন্ত ওড়িশার মাটির নিচে ঠিক কত পরিমাণ সোনা আছে, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি খনন কার্যক্রম সফল হয়, তাহলে এটি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম স্বর্ণখনি হয়ে উঠতে পারে।
এই আবিষ্কার শুধুমাত্র ওড়িশা নয়, গোটা দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই খনন ও নিলামের প্রস্তুতি শুরু করেছে, এবং ২০২৫ সালের মধ্যে চূড়ান্ত অনুসন্ধান রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
তাহলে কি ওড়িশা রাতারাতি ‘স্বর্ণরাজ্যে’ পরিণত হতে চলেছে? আপাতত উত্তরের জন্য অপেক্ষা করছে গোটা দেশ!
ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব, ভারতের চিন্তা বাড়ছে!