‘ওঁকে মেরে ফেল, ৬ লক্ষ টাকা দেব’! কানপুরে কোটিপতি শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

কানপুরে কোটিপতি শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। শ্বশুরকে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর পুত্রবধূ শালুকে।…

September 8, 2026
0 min read

কানপুরে কোটিপতি শ্বশুরকে খুনের অভিযোগ পুত্রবধূর বিরুদ্ধে

কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। শ্বশুরকে খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁর পুত্রবধূ শালুকে। পুলিশের দাবি, পরিচারককে দিয়ে বিনীতকে খুন করানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এমনকি খুনের পর সন্দেহ এড়াতে শ্বশুরের দেহের পাশে বসে কান্নাতেও ভেঙে পড়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে। তদন্তকারী এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই রাতে শালু তাঁর স্বামী সুব্রত এবং সন্তানকে নিয়ে একটি পার্টিতে গিয়েছিলেন। গভীর রাতে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। সেই সময় বাড়িতে একাই ছিলেন বিনীত।

বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান দরজা খোলা। ঘরের ভিতরে বিছানার উপর পড়ে রয়েছে বিনীতের রক্তাক্ত দেহ। শ্বশুরকে ওই অবস্থায় দেখেই শালু কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রথমে ঘটনাটি সাধারণ খুন বলেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করতে গিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে।

ফুটেজে এক যুবককে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। সেই সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তাঁর নাম বিশাল এবং তিনি বিনীতের বাড়িতে পরিচারকের কাজ করতেন।

পুলিশের দাবি, জেরায় বিশাল জানিয়েছেন, তাঁকে ফোন করেছিলেন শালু। শ্বশুরকে খুন করলে তাঁকে ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি বিশালের। এমন ভাবে খুন করতে বলা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়।

বিশালের বয়ান অনুযায়ী, প্রথমে গাড়িচাপা দিয়ে বিনীতকে খুন করার পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি হননি তিনি। এর পর শালুই নাকি বালিশচাপা দিয়ে খুনের পরামর্শ দেন, যাতে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর মতো মনে হয়।

তদন্তকারীদের আরও দাবি, এই পরিকল্পনায় বিশাল তাঁর বন্ধু রাজকিশোরকে যুক্ত করেন। তাঁকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। শালুর নির্দেশ ছিল, ফুলের মালা দেওয়ার অজুহাতে বাড়িতে ঢুকতে হবে। পুলিশের দাবি, বাড়ির চাবিও বিশালের হাতে পৌঁছেছিল এবং তার ডুপ্লিকেট চাবি তৈরি করা হয়েছিল।

এর পর শালু এবং তাঁর স্বামী পার্টিতে চলে গেলে বিশাল ও রাজকিশোর ওই বাড়িতে ঢোকেন বলে তদন্তকারীদের দাবি। প্রথমে বালিশচাপা দিয়ে বিনীতকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। সেই পরিকল্পনা সফল না হওয়ায় তাঁকে ছুরি দিয়ে একাধিক বার আঘাত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বিনীতের শরীরে মোট ২৬টি ছুরির আঘাতের চিহ্ন মিলেছে।

তদন্তে শালুর নাম উঠে আসার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশকে শালু জানিয়েছেন, বাড়ির সর্বত্র সিসিটিভি লাগিয়ে তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখতেন বিনীত। ব্যক্তিগত জীবনে শ্বশুরের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ নিয়েও তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি।

তবে শালুর এই বক্তব্য এবং বিশালের বয়ানে উঠে আসা খুনের পরিকল্পনার সবটা কতটা সত্য, তা এখনও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তাঁদের ভূমিকা কী ছিল এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি কতটা বাস্তব—সব দিকই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *