এশিয়াডের হতাশা ভুলিয়ে বিশ্বকাপে সোনা উদয়বীরের!
এশিয়ান গেমসে শুটিংয়ে সোনা না পাওয়ার হতাশা কাটিয়ে বিশ্বকাপে নজর কাড়লেন ভারতের উদয়বীর সিধু। মিশরের কাইরোতে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে সোনা জিতেছেন ২৪ বছরের এই শুটার। ফাইনালে জার্মানির ক্রিশ্চিয়ান রেইৎজ়কে মাত্র ০.৫ পয়েন্টে হারিয়েছেন তিনি। রেইৎজ় ২০১৬ সালের রিয়ো ডি জেনেইরো অলিম্পিক্সে সোনা এবং ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিক্সে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।
শেষ দুই শটে বাজিমাত উদয়বীরের
কাইরোর শুটিং বিশ্বকাপের ফাইনালে শুরু থেকেই জমে উঠেছিল লড়াই। এক সময় রেইৎজ়ের পিছনে থাকলেও শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়ান উদয়বীর। শেষ দুই শট বাকি থাকতে তিনি ০.৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ফলে শেষ মুহূর্তে দুই প্রতিযোগীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
চাপের মুখে শেষ দুই শটে রেইৎজ় ৯.৬ ও ৯.৬ পয়েন্ট করেন। অন্য দিকে, উদয়বীরের শেষ দুই শটের স্কোর ছিল ১০.২ ও ৯.৮। এই দুই শটেই সোনার লড়াইয়ে এগিয়ে যান ভারতীয় শুটার।
ফাইনালে উদয়বীরের মোট স্কোর ছিল ২৪০.৬ পয়েন্ট। রেইৎজ় করেন ২৪০.১ পয়েন্ট। মাত্র অর্ধেক পয়েন্টের ব্যবধানে সোনা জিতে নেন উদয়বীর। ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ইতালির পাওলো মোন্না। তাঁর স্কোর ২১৯.৮ পয়েন্ট।
বাছাইপর্বে চতুর্থ, ফাইনালে সেরার শিরোপা
ফাইনালের আগে বাছাইপর্বে আট প্রতিযোগীর মধ্যে চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিলেন উদয়বীর। ছ’টি সিরিজ় মিলিয়ে তাঁর স্কোর ছিল ৫৮৫। তবে ফাইনালে নিজের দক্ষতা ও চাপ সামলানোর ক্ষমতা দেখিয়ে সেরার শিরোপা জিতে নেন তিনি।
এই ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন প্যারিস অলিম্পিক্সে পদকজয়ী তুরস্কের ইউসুফ ডিকেচও। তবে ফাইনালে তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। ১৩৮ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে শেষ করেন ডিকেচ।
এশিয়াডের হতাশা কাটিয়ে স্বস্তি ভারতীয় শুটিংয়ে
এশিয়ান গেমসে মনু ভাকেরের মতো তারকা শুটার থাকা সত্ত্বেও শুটিংয়ে একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। সেই প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে উদয়বীরের এই সাফল্য ভারতীয় শুটিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য।
অলিম্পিক্সে জোড়া পদকজয়ী অভিজ্ঞ প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে শেষ মুহূর্তে সোনা জেতা উদয়বীরের দক্ষতারই পরিচয়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর এই সাফল্য আগামী দিনে ভারতীয় শুটিংয়ের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা যায়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।