Thursday, February 27, 2025

এক সময়ের কোচিং রাজধানী কোটা কি ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ‘ভূতের শহর’?

Share

কোচিং রাজধানী কোটা কি ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছে ‘ভূতের শহর’!

রাজস্থানের কোটা— যে শহর একসময় দেশের অন্যতম বড় কোচিং হাব হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে এখন ক্রমশই কমছে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা। ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী ভিড় করত, এখন সেখানে হস্টেল, কোচিং সেন্টারগুলো শুনশান পড়ে রয়েছে।

কিন্তু কেন এই পরিবর্তন? কেন কোটা তার পুরনো রূপ হারাচ্ছে?

এক দশকে বদলে যাওয়া কোচিং হাব

কোটা শহর একসময় ‘কোচিং রাজধানী’ নামে পরিচিত ছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখানে আসত ডাক্তারি ও ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যেখানে আগে বছরে ২-২.৫ লাখ শিক্ষার্থী কোচিং নিতে আসত, সেখানে এখন সেই সংখ্যা কমে মাত্র ৮৫,০০০ থেকে ১ লাখে নেমে এসেছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক কোচিং সেন্টার ও হস্টেল।

পড়ুয়া কমার প্রভাব: অর্থনীতিতে ধাক্কা

কোটার কোচিং শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজার হাজার মানুষের জীবিকা। কোচিং সেন্টার, হস্টেল, রেস্তোরাঁ, বইয়ের দোকান, অটোচালক থেকে চা-বিক্রেতা— সকলেই এই খাতের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় এখন শহরের অর্থনীতিতে বিশাল ধাক্কা লেগেছে।

কোটা থেকে যে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হত, সেটা ৬,৫০০ কোটি টাকা থেকে কমে মাত্র ৩,৫০০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। হস্টেলের ভাড়া যেখানে আগে মাসে ১৫-১৬ হাজার টাকা ছিল, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ২-২.৫ হাজার টাকায়।

কেন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা?

১. আত্মহত্যার ক্রমবর্ধমান হার
কোটায় শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনা বেশ কয়েক বছর ধরেই আলোচনার বিষয়। চরম পড়াশোনার চাপ, প্রতিযোগিতার পরিবেশ এবং মানসিক চাপের কারণে ২০২৩ সালে ২৩ জন ও ২০২৪ সালে ১৭ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই প্রবণতা অভিভাবকদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে এবং অনেকেই সন্তানদের আর কোটায় পাঠাতে চাইছেন না।

২. সরকারের নতুন নীতিমালা
সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রকের নতুন নীতির কারণে ১৬ বছরের কম বয়সি শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে যারা অল্প বয়স থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে চাইত, তারা এখন কোটায় আসতে পারছে না।

৩. অনলাইন শিক্ষার জনপ্রিয়তা
COVID-19 মহামারির পর থেকে অনলাইন কোচিং ক্লাসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন অনেক শিক্ষার্থী ঘরে বসেই অনলাইনে কোচিং নিচ্ছে, ফলে কোটায় আসার প্রয়োজনীয়তা কমে গেছে।

কোটার ভবিষ্যৎ কী?

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে— কোটা কি আবার ফিরে পাবে তার পুরনো গৌরব?

শহরের অনেকেই আশাবাদী যে পরিস্থিতি আবার বদলাবে। ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অফ রাজস্থান ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর চেয়ারম্যান গোবিন্দরাম মিত্তল মনে করেন, কোটার শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও অতুলনীয়। একবার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে শিক্ষার্থীরা আবার ফিরে আসবে।

তবে বাস্তবতা বলছে, কোটার সোনালি দিন হয়তো আর ফিরে আসবে না। প্রযুক্তির উন্নতি, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তনের ফলে কোচিং-নির্ভরতা ক্রমশ কমছে। ফলে কোটা আর আগের মতো ব্যস্ত শহর হয়ে উঠবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

গঙ্গায় ট্রলি ব্যাগে লাশ ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা মা-মেয়ে! কী বলল জেরায়?

Read more

Local News