একের পর এক উড়ান বাতিল!
আবারও বিপাকে পড়লেন এয়ার ইন্ডিয়ার যাত্রীরা। রক্ষণাবেক্ষণ, খারাপ আবহাওয়া এবং আকাশসীমা বন্ধ থাকার মতো একাধিক কারণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ উড়ান বাতিল করল রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থাটি। যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য সংস্থার পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশও করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, একাধিক যান্ত্রিক সমস্যা এবং পরিকাঠামোগত পরীক্ষার কারণে কিছু উড়ান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে তারা। যাত্রীদের সম্পূর্ণ টিকিট মূল্য ফেরত দেওয়া হবে, বা চাইলে অন্য ফ্লাইটে বুকিংয়ের সুযোগও করে দেওয়া হবে।
কোন কোন উড়ান বাতিল?
এদিন বাতিল হয়েছে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- দুবাই থেকে চেন্নাই (AI 906)
- দিল্লি থেকে মেলবোর্ন (AI 308)
- মেলবোর্ন থেকে দিল্লি (AI 309)
- দুবাই থেকে হায়দরাবাদ (AI 2204)
- পুণে থেকে দিল্লি (AI 874)
- অহমদাবাদ থেকে দিল্লি (AI 456)
- হায়দরাবাদ থেকে মুম্বই (AI 2872)
- চেন্নাই থেকে মুম্বই (AI 571)
এই উড়ানগুলির বেশিরভাগই বাতিল হয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন পড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে খারাপ আবহাওয়া এবং পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকাও অন্যতম কারণ।
যাত্রীদের জন্য কী ব্যবস্থা?
এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলির টিকিট কেটেছেন, তাঁদের বিকল্প ফ্লাইটের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অথবা তাঁরা চাইলে পুরো টাকার রিফান্ড নিতে পারেন। সংস্থার তরফে একটি হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা সহজেই তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন।
পেছাচ্ছে আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও
এর আগের দিন এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছিল, আগামী ২১ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হবে। ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার বেশ কিছু আকাশপথ বন্ধ রয়েছে। ফলে কিছু বিমানকে ঘুরপথে যেতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে নির্ধারিত সময়সূচিতে। অনেক সময় মূল গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হওয়ায়, ফেরার উড়ানে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বিমান বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে এয়ার ইন্ডিয়া।
সংস্থার বার্তা
এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিষেবার মান বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিটি ফ্লাইটে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। কোনওরকম ত্রুটি ধরা পড়লেই তা মেরামত করা হচ্ছে। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রযুক্তিগত ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট বাতিল অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
বিমানের প্রতি ভয় বাড়ছে? দুর্ঘটনার পরে যাত্রীদের মনে ঘনীভূত ‘ফ্লাইট অ্যাংজাইটি’