Friday, April 4, 2025

ইউরোপে আবারও যুদ্ধের ছায়া! নেটোর সতর্কবার্তায় আতঙ্ক, পুতিন কি নতুন অভিযান শুরু করবেন?

Share

পুতিন কি নতুন অভিযান শুরু করবেন?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কি ইউক্রেনের পর আরেকটি ইউরোপীয় দেশে হামলা চালাবেন? নেটোর সর্বোচ্চ কর্মকর্তা মার্ক রুট সম্প্রতি এমনই এক চাঞ্চল্যকর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পুতিন ইউরোপের আরেকটি দেশ আক্রমণ করতে পারেন। এর ফলে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা আরও প্রবল হয়ে উঠেছে

নেটোর এই সতর্কবার্তার পর ইউরোপজুড়ে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নাগরিকদের ৭২ ঘণ্টার প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করার পরামর্শ দিয়েছে। খাবার, পানি এবং ওষুধ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে, যা ইউরোপের নাগরিকদের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে।


পোল্যান্ড কি পুতিনের পরবর্তী লক্ষ্য?

সম্প্রতি পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে এক ভাষণে নেটোর সেক্রেটারি জেনারেল রুট বলেন,
“২০৩০ সালের মধ্যেই রাশিয়া ইউরোপের আরেকটি দেশ আক্রমণ করবে।’’

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুতিনের পরবর্তী লক্ষ্য পোল্যান্ড হতে পারে। ইউক্রেনের সীমান্ত ঘেঁষা এই দেশটি নেটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ফলে রাশিয়া যদি এখানে হামলা চালায়, তাহলে তা সরাসরি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সংঘাতের কারণ হতে পারে

এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪৫ কোটি নাগরিককে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে ইইউ। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য তিন দিনের প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে রাখতে বলেছে সংস্থাটি


ইউরোপে আতঙ্ক ও প্রস্তুতি

ইইউর প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা কমিশনার হাদজা লাহবিব নাগরিকদের নিজেদের রক্ষা করার জন্য বাড়িতে একটি ছুরি রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন,
“রাশিয়া এখন আরও আগ্রাসী হয়ে উঠছে। ইউক্রেনের যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ছে, ইউরোপ এখন সরাসরি হুমকির মুখে।”

তবে এই সতর্কবার্তাকে অনেকেই বিভ্রান্তিকর এবং আতঙ্ক সৃষ্টিকারী বলে সমালোচনা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই ব্যঙ্গ করে প্রশ্ন তুলেছেন,
“প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মধ্যে কি আগ্নেয়াস্ত্রও রাখা উচিত? আর গড়ে একজন মানুষের জন্য কয়টা বুলেট প্রয়োজন?”

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ৩ দিনের খাবার, পানি এবং ওষুধ মজুতের নির্দেশের ফলে বাজারে বিশৃঙ্খলা এবং কালোবাজারি তৈরি হতে পারে


পুতিনের নতুন যুদ্ধ কি শুরু হতে চলেছে?

নেটোর আশঙ্কা অমূলক নয়। মাত্র কয়েক দিন আগেই রাশিয়া ইউক্রেনের সুমি শহরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এরপরই নেটোর প্রধান রুট বলেন,
“যদি পুতিন ইউরোপের অন্য কোনো দেশে হামলা চালান, তাহলে তাঁকে চরম মূল্য দিতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন,
“যদি কেউ মনে করেন নেটো সদস্য পোল্যান্ড বা অন্য কোনো দেশে হামলা চালিয়ে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে তাঁরা ভয়ঙ্কর ভুল করছেন। আমরা এর কঠোর জবাব দেব।’’


নেটোর শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা

এই হুমকির মুখে ইউরোপ তাদের সামরিক শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। তারা এখন নিজস্ব সামরিক জোট গড়ে তুলতে চায়, যাতে তারা শুধুমাত্র আমেরিকার উপর নির্ভরশীল না থাকে

পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি না দেয়, তাহলে ইউরোপে আরও বড় সংঘাত তৈরি হতে পারে


বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা: ট্রাম্পের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু জেলেনস্কি এতে রাজি না হওয়ায় ওভাল অফিসে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়

এরপর ট্রাম্প ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার পথ খোঁজেন। কিন্তু রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এতে কোনো আগ্রহ দেখাননি। বরং, তিনি সাফ জানিয়ে দেন— যতদিন আমেরিকা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখবে, ততদিন যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়


নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আমেরিকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য রয়েছে—

  1. ইউরোপের উপর রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণ ঠেকানো
  2. মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপর সামরিক চাপ সৃষ্টি করা
  3. চীনের সামরিক শক্তিকে প্রতিহত করা

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, নেটোর সতর্কবার্তা কি শুধুই পূর্ব প্রস্তুতি, নাকি সত্যিই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইঙ্গিত?


শেষ কথা

১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল পোল্যান্ডে৮৬ বছর পর আবারও সেই দেশকে ঘিরে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে

নেটো কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেবে? পুতিন কি সত্যিই নতুন যুদ্ধ শুরু করতে চলেছেন? নাকি ইউরোপ শুধু আতঙ্কের মধ্যে রাখার জন্য এই সতর্কবার্তা দিচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনও অজানা, তবে একটাই সত্য— পৃথিবী এখন এক নতুন সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে!

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জে ভূমিকম্পের তাণ্ডব! সুনামির আশঙ্কা

Read more

Local News