পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নে যোগীর মন্তব্যে জল্পনা তুঙ্গে!
নরেন্দ্র মোদীর পর বিজেপির ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে চলছে চর্চা। দুই সম্ভাব্য নাম— অমিত শাহ ও যোগী আদিত্যনাথ। তবে এই জল্পনার মাঝেই যোগী নিজেই মুখ খুললেন এবং তাঁর বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিল।
সম্প্রতি পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যোগী আদিত্যনাথ বলেন,
💬 “রাজনীতি আমার কাছে পূর্ণ সময়ের কাজ নয়। আমি মনেপ্রাণে একজন যোগী।”
কিন্তু তাঁর অনুগামীরা তো তাঁকেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি রহস্যময়ভাবে বললেন,
💬 “সব কিছুরই একটা সময় আছে।”
তাহলে কি তিনি ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রিত্বের দৌড়ে আছেন? নাকি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিলেন যে, তিনি এই লড়াইয়ে নেই?
রাজনীতিতে কতদিন থাকবেন যোগী?
যোগী আদিত্যনাথ বর্তমানে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি আর কতদিন রাজনীতিতে থাকবেন, তখন তিনি সোজাসাপ্টা বলেন—
💬 “আমি রাজ্যের জনগণের সেবা করতে এসেছি। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটাই পালন করছি।”
তবে এই বক্তব্যেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানো পুরো সময়ের রাজনীতিবিদের কাজ। তাহলে কি তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত? নাকি কৌশলে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিজের নাম আলোচনায় রাখলেন?
যোগীর জনপ্রিয়তা বনাম বিজেপির চাপ
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর বিজেপির উত্তরপ্রদেশে পারফরম্যান্স হতাশাজনক।
📌 ২০১৯ সালে বিজেপি ৮০টির মধ্যে ৬২টি আসন জিতেছিল
📌 ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৩৩-এ
বিশেষত বারাণসী ও অযোধ্যায় বিজেপির খারাপ ফল চিন্তায় ফেলেছে দলকে।
🚨 বারাণসীতে মোদীর জয়ের ব্যবধান পাঁচ লক্ষ থেকে নেমে দেড় লক্ষে এসেছে
🚨 অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের পরেও বিজেপি প্রার্থী হেরে গেছেন
এখন প্রশ্ন উঠছে—
🔹 এই খারাপ ফলের দায় মোদী ও শাহ-এর নাকি যোগী আদিত্যনাথের?
🔹 বিজেপির ভেতরেই কি মতবিরোধ দেখা দিয়েছে?
🔹 আরএসএস কি যোগীকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?
দিল্লিতে কি ‘যোগীরাজ’ আসতে চলেছে?
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে অযোধ্যায় রামমন্দির উদ্বোধনের সময় মোদী ছিলেন মূল আকর্ষণ।
কিন্তু ২০২৫ সালে প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলায় যোগীই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
📢 বিজেপির একাংশ ইতিমধ্যেই ‘দিল্লিতে যোগীরাজ’ স্লোগান তুলেছে!
বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগীর সম্পর্ক কেমন?
কিছুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে, যোগী আদিত্যনাথ ও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি নিজেই এই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।
💬 “দলের কারণেই আমি এখানে। যদি মতপার্থক্য থাকত, তাহলে কি আমি এখনো এই পদে থাকতে পারতাম?”
কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যোগীর জনপ্রিয়তা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে চিন্তায় ফেলেছে। কারণ—
🔸 তিনি কট্টর হিন্দুত্বের পোস্টার বয়, যা বিজেপির ভোটব্যাংকে বড় প্রভাব ফেলে
🔸 উত্তরপ্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে তিনি শক্তিশালী নেতা
🔸 তাঁর অনুগামীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তিনিই ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী
আরএসএস-এর সমর্থন নিয়ে কী বললেন যোগী?
আরএসএস-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, তিনি সরাসরি বলেন—
💬 “আরএসএস ভারতের প্রতি দায়বদ্ধ হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। তারা বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখায়।”
এই বক্তব্য স্পষ্টতই আরএসএস-এর প্রতি তাঁর আনুগত্য দেখায়। আর আরএসএস বিজেপির নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাহলে কি যোগী আরএসএস-এর সমর্থনে ধীরে ধীরে দিল্লির পথে এগোচ্ছেন?
২০২৭ সালে যোগীর ‘অগ্নিপরীক্ষা’!
২০২৭ সালে উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন।
👉 তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারলে, তিনি বিজেপির সবচেয়ে শক্তিশালী মুখ হয়ে উঠবেন
👉 আর যদি ব্যর্থ হন, তাহলে প্রধানমন্ত্রিত্বের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে
শেষ প্রশ্ন…
❓ যোগী আদিত্যনাথ কি সত্যিই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নেই, নাকি কৌশলে নিজেকে আলোচনায় রাখছেন?
❓ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি তাঁকে মোদীর উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে চায়?
❓ আরএসএস কি বিজেপির নেতৃত্ব পরিবর্তন করতে চাইছে?
এখন শুধু সময়ই বলবে, মোদীর পর দিল্লির মসনদে কে বসবেন— যোগী নাকি অন্য কেউ!
ট্রাম্পের ‘পাল্টা শুল্ক’ ঘোষণার অপেক্ষায় বিশ্ব, ভারতের চিন্তা বাড়ছে!