‘আমি কিছুই করিনি!’— রাজা হত্যায় অভিযুক্তদের মুখে অস্বীকার, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও নীরব

রাজা হত্যায় অভিযুক্তদের মুখে অস্বীকার, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও নীরব! রাজা রঘুবংশী হত্যা-কাণ্ড যেন ক্রমেই আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। সারা দেশকে আলোড়িত করা এই খুনের মামলায় এখন নতুন মোড়। এই ঘটনার অন্যতম…

June 27, 2025
1 min read

রাজা হত্যায় অভিযুক্তদের মুখে অস্বীকার, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও নীরব!

রাজা রঘুবংশী হত্যা-কাণ্ড যেন ক্রমেই আরও জটিল রূপ নিচ্ছে। সারা দেশকে আলোড়িত করা এই খুনের মামলায় এখন নতুন মোড়। এই ঘটনার অন্যতম দুই অভিযুক্ত আকাশ রাজপুত ও আনন্দ কুর্মি—যাঁদের বিরুদ্ধে রাজাকে খুনের সুপারি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে—এবার মুখ খুলতেই অস্বীকার করলেন আদালতের সামনে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশের কাছে যে বয়ানে তাঁরা হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন, তাও এখন অস্বীকার করছেন এই দুই অভিযুক্ত।

বৃহস্পতিবার শিলঙের ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয় তাঁদের। কিন্তু সেখানেও নীরব থাকেন দুই অভিযুক্ত। মেঘালয় পুলিশের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অভিযুক্তেরা বয়ান না দিলেও পুলিশের হাতে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, যা তাদের অপরাধের দিকেই ইঙ্গিত করে। পুলিশ সুপার হার্বার্ট পিনিয়াইড খারকোঙ্গর জানালেন, “স্বীকারোক্তি না দিলেও আমরা ফরেন্সিক ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করছি। সব দিকেই তদন্ত এগোচ্ছে।”

তবে এখানেই থেমে নেই এই কাণ্ডের বিস্তৃতি। পুলিশ জানিয়েছে, রাজা রঘুবংশীকে খুনের জন্য ৩ জনকে ভাড়া করা হয়েছিল—আকাশ, আনন্দ ও বিশাল সিংহ চৌহান। আর এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অভিযোগের তীর সোনম রঘুবংশী ও তাঁর প্রেমিক রাজের দিকে। পুলিশের দাবি, ইনদওরে বিয়ের পর মেঘালয়ে মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছিলেন নবদম্পতি। সেখানেই ২৩ মে রাজাকে খুন করা হয়। এরপর দীর্ঘদিন নিখোঁজ ছিলেন তাঁরা।

২ জুন রাজার দেহ উদ্ধার হয় একটি জলপ্রপাতের ধার থেকে। সেই ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর উত্তরপ্রদেশের গাজিপুরে গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সোনম। তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—রাজা খুনের পরে যে ফ্ল্যাটে সোনম আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেই ফ্ল্যাটের মালিক, আবাসনের রক্ষী এবং স্থানীয় এক জমি ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা তথ্যপ্রমাণ লোপাটে সাহায্য করেছিলেন।

এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে মেঘালয় পুলিশ। গঠিত হয়েছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন খারকোঙ্গর নিজেই। তাঁর কথায়, “প্রত্যক্ষ স্বীকারোক্তি না থাকলেও আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। তদন্তে নানা গুরুত্বপূর্ণ সূত্র আমাদের হাতে এসেছে। ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে এলেই আরও সুস্পষ্ট হবে গোটা চিত্র।”

এই হত্যাকাণ্ড এখন শুধু একটি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং দেশের অন্যতম চাঞ্চল্যকর অপরাধের তালিকায় নাম লেখাচ্ছে। প্রেম, প্রতারণা, ষড়যন্ত্র আর সুপারি কিলিং—সব কিছু মিলে যেন একটি রুদ্ধশ্বাস সিনেমার চিত্রনাট্য।

স্মৃতি ধরে রাখার জাদু: মস্তিষ্কে অ্যাসিটোকোলিন সচল রাখতে রোজকার অভ্যেসে আনুন এই পাঁচ পরিবর্তন

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *