সিএজি রিপোর্টে মহারাষ্ট্রের ‘ভূতুড়ে’ ছাত্রাবাস নিয়ে বড় প্রশ্ন!
মহারাষ্ট্রে সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের জন্য তৈরি সরকারি ছাত্রাবাস ব্যবস্থা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে এনেছে ভারতের নিয়ন্ত্রক ও মহালেখা পরীক্ষক (সিএজি)-র অডিট রিপোর্ট। বিধানসভায় পেশ হওয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের ছয়টি ছাত্রাবাসে একজনও আবাসিক না থাকলেও গত চার বছরে সেগুলির জন্য মোট ১.৬২ কোটি টাকা সরকারি অনুদান বরাদ্দ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র সরকারের প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিএজি-র ২০২৪ সালের কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সমাজকল্যাণ ও বিশেষ সহায়তা দফতর নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ করে গেছে এই ছাত্রাবাসগুলিতে। অডিট চলাকালীন আধিকারিকেরা জালনা জেলার মোদিখান ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখতে পান, ভবনটি তালাবন্ধ ও জরাজীর্ণ। সেখানে কোনও ছাত্রের উপস্থিতি ছিল না। অথচ সরকারি নথিতে ওই হস্টেলে ৩৮ জন আবাসিকের নাম রয়েছে এবং একজন সুপারিনটেনডেন্টের জন্য চার বছরে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা সম্মানীও দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে জালনা জেলার জাফরাবাদ, বুলধানা এবং লাতুরের আরও কয়েকটি ছাত্রাবাসে। সরকারি কাগজে সেখানে নিয়মিত ছাত্র থাকার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে ভবনগুলি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। অনেক জায়গায় ধুলো জমা বিছানা ও অব্যবহৃত আসবাবপত্র ছাড়া আর কিছুই মেলেনি।
তবে সিএজি সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ করেনি। রিপোর্টে বলা হয়েছে, অর্থ বরাদ্দ ও তদারকির ক্ষেত্রে প্রশাসনের বড় ধরনের গাফিলতি রয়েছে। সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় নজরদারির অভাব স্পষ্ট হয়েছে।
রিপোর্টে শুধু ‘ভূতুড়ে’ ছাত্রাবাস নয়, সামগ্রিক পরিকাঠামোর দুরবস্থার ছবিও উঠে এসেছে। বহু হস্টেলে নেই ডাইনিং হল, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, সিসিটিভি, বিদ্যুৎ ব্যাকআপ বা নিয়মিত সংবাদপত্রের ব্যবস্থা। কোথাও শিক্ষার্থীদের মাটিতে বসে খেতে হচ্ছে, আবার কোথাও বিশুদ্ধ পানীয় জল, স্বাস্থ্যপরীক্ষা, পর্যাপ্ত আলো কিংবা পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের মতো মৌলিক সুবিধারও অভাব রয়েছে।
বিশেষভাবে সক্ষম শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত নিয়মও বহু ক্ষেত্রে মানা হয়নি। আইন অনুযায়ী তাঁদের একতলায় থাকার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও কয়েকটি ছাত্রাবাসে তাঁদের উপরের তলায় থাকতে দেখা গিয়েছে।
প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনাতেও ধরা পড়েছে বড়সড় ঘাটতি। আবাসিক ও কর্মীদের উপস্থিতি নথিবদ্ধ করতে ২৮০টি সরকারি ছাত্রাবাসে বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করা হলেও, অডিটের সময় কার্যকর অবস্থায় পাওয়া গেছে মাত্র ৪৬টি ডিভাইস।
অন্যদিকে, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ছাত্রাবাসগুলির জন্য বরাদ্দ ৪৮৭ কোটি টাকার মধ্যে প্রায় ৫৬.৬৫ কোটি টাকা খরচই করা হয়নি। ফলে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজও প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। বর্তমানে রাজ্যের ১১৭টি তালুকে এখনও কোনও সরকারি ছাত্রাবাস নেই, যার ফলে প্রায় ৮,৯৩০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সিএজি আরও জানিয়েছে, রাজ্যের ৪৯টি সরকারি ছাত্রাবাসে সুপারিনটেনডেন্টের পদ খালি রয়েছে। এমনকি মেয়েদের পাঁচটি হস্টেলও পুরুষ সুপারিনটেনডেন্টের তত্ত্বাবধানে চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে ৫০০টি সরকারি ছাত্রাবাস তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হলেও, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তৈরি হয়েছে মাত্র ৪৪৩টি।
এই অডিট রিপোর্ট সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রে সরকারি ছাত্রাবাস পরিচালনা, অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সিএজি সরাসরি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তোলেনি, তবে পরিকল্পনার অভাব, নজরদারির ঘাটতি এবং সরকারি সম্পদের অদক্ষ ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?