আন্দামান সাগরে লুকিয়ে ‘তরল সোনার’ ভাণ্ডার! ভারতের তেলের ভাঁড়ারে আসছে যুগান্তকারী বিপ্লব?

আন্দামান সাগরে লুকিয়ে 'তরল সোনার' ভাণ্ডার! ভারতের অর্থনীতিতে এক সম্ভাব্য অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! আন্দামান সাগরের গভীরে মিলতে পারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত খনিজ তেলের ভাণ্ডার— এমনই আশাজাগানিয়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম…

June 18, 2025
1 min read

আন্দামান সাগরে লুকিয়ে ‘তরল সোনার’ ভাণ্ডার!

ভারতের অর্থনীতিতে এক সম্ভাব্য অভাবনীয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত! আন্দামান সাগরের গভীরে মিলতে পারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত খনিজ তেলের ভাণ্ডার— এমনই আশাজাগানিয়া বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। যদি এটি সত্যি প্রমাণিত হয়, তাহলে ভারতের জ্বালানিনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পুরীর দাবি, আন্দামান সাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকতে পারে প্রায় ১১৬০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। এই তেল উত্তোলন সম্ভব হলে ভারত আর ওপেকভুক্ত দেশ বা রাশিয়ার মতো তেল রফতানিকারীদের উপর নির্ভরশীল থাকবে না। মন্ত্রীর কথায়, “ভারত এখন গায়ানার মতোই বড় তেলের খনি আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে।”

উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার ছোট্ট দেশ গায়ানা কয়েক বছর আগে বিশাল তেলের ভাণ্ডার খুঁজে পায়। বর্তমানে তারা বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের দৌড়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সেই সাফল্যের পথেই হাঁটতে পারে ভারত, যদি আন্দামানে এই ‘তরল সোনা’ তুলে আনা সম্ভব হয়।

কী রয়েছে ভারতের ঝুলিতে?

এই মুহূর্তে কর্নাটকের মেঙ্গালুরু, পাদুর এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে মিলিয়ে প্রায় ৫৩.৩ লক্ষ টন অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। এ ছাড়াও অসম, গুজরাত, রাজস্থান এবং মুম্বই উপকূলে রয়েছে ছোট ছোট খনিগুলি। তবে এ সবই দেশের চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ। মে মাসেই দিনে ৫১ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যার সিংহভাগই এসেছে রাশিয়া থেকে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে ভারতেও পেট্রল-ডিজেল-এলপিজি-সহ জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে ভারতের নিজস্ব ভাণ্ডার আবিষ্কারের সম্ভাবনা নিঃসন্দেহে একটি বিশাল ইতিবাচক বার্তা।

আরও এগোচ্ছে অনুসন্ধান

২০২৪ অর্থবর্ষে ওএনজিসি (ONGC) ৫৪১টি তেলের কূপ খনন করেছে, যা গত ৩৪ বছরে সর্বোচ্চ। এই অনুসন্ধানে খরচ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। এখন সেই খোঁড়াখুঁড়ির মূল ফোকাস হচ্ছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের এলাকায়। ওএনজিসি ও অয়েল ইন্ডিয়া একযোগে কাজ শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খনি থেকে তেল উত্তোলন শুরু হলে শুধু আমদানির চাপ কমবে না, বরং ভারতের জিডিপি-ও বাড়তে পারে গায়ানার মতো উল্লম্ফন গতিতে।

উপসংহার

ভারতের জ্বালানির চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে। এমন সময়ে নিজের ভূখণ্ডে যদি খনিজ তেলের মতো অমূল্য সম্পদ পাওয়া যায়, তবে সেটি অর্থনীতির পালে জোরাল হাওয়া দেবে। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা— এই ‘যকের ধন’ সত্যি হয়ে ওঠে কিনা!

শসা নয়, এবার লাউয়ের রায়তা! পুষ্টিবিদ বলছেন, উপকারে অনেকটাই এগিয়ে ‘লউকি’র ছাপা রেসিপি

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *