আগ্নেয়গিরির মধ্যেই লুকিয়ে বিষ নষ্টের উপায়! নতুন গবেষণায় অবাক বিজ্ঞানীরা

আগ্নেয়গিরির মধ্যেই লুকিয়ে বিষ নষ্টের উপায়! Volcanic eruption মানেই ধ্বংস, বিষাক্ত গ্যাস আর ভয়াবহ বিপর্যয়ের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আগ্নেয়গিরি শুধু ক্ষতি করে না, তার…

May 18, 2026
1 min read

আগ্নেয়গিরির মধ্যেই লুকিয়ে বিষ নষ্টের উপায়!

Volcanic eruption মানেই ধ্বংস, বিষাক্ত গ্যাস আর ভয়াবহ বিপর্যয়ের ছবি ভেসে ওঠে চোখে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আগ্নেয়গিরি শুধু ক্ষতি করে না, তার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে দূষণ কমানোর প্রাকৃতিক উপায়ও। এই নতুন তথ্য ঘিরে বিজ্ঞানীমহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

২০২২ সালে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের টোঙ্গা দ্বীপের কাছে সমুদ্রের নীচে থাকা হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হাপাই আগ্নেয়গিরিতে ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের ধোঁয়া ও ছাইয়ের মেঘ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা এক চমকপ্রদ তথ্যের সন্ধান পান। তাঁরা দেখতে পান, ওই ধোঁয়ার মধ্যে ফরম্যালডিহাইড নামের একটি রাসায়নিক যৌগ তৈরি হয়েছিল, যা বায়ুমণ্ডলে থাকা বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ভাঙতে সাহায্য করে।

মিথেন হল অত্যন্ত শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাস। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তাই দীর্ঘ দিন ধরেই বিজ্ঞানীরা মিথেন কমানোর কার্যকর উপায় খুঁজছিলেন। এই গবেষণা সেই খোঁজে নতুন দিশা দেখাল।

নেদারল্যান্ডসের Acacia Impact Innovation BV-এর গবেষকেরা উপগ্রহচিত্র ও বায়ুমণ্ডলীয় তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, আগ্নেয়গিরির ধোঁয়ার মধ্যে থাকা লবণ, খনিজ পদার্থ এবং সূর্যালোকের প্রভাবে ক্লোরিন সক্রিয় হয়ে ওঠে। সেই ক্লোরিন মিথেন ভাঙার একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়া শুরু করে। এই বিক্রিয়ার মধ্যবর্তী ধাপ হিসাবেই তৈরি হয় ফরম্যালডিহাইড।

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা বায়ুমণ্ডল বিশেষজ্ঞ Maarten van Harpen জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরি থেকে মিথেন নির্গত হওয়ার বিষয়টি জানা থাকলেও, আগ্নেয়গিরির ছাই যে সেই দূষণ কমাতেও ভূমিকা নিতে পারে, তা আগে জানা যায়নি।

বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের পরে তৈরি হওয়া বিশাল ধোঁয়ার মেঘ প্রায় ১০ দিন ধরে আকাশে ভেসেছিল এবং দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেই সময় জুড়েই মেঘের ভিতরে মিথেন ভাঙার প্রক্রিয়া চলেছে।

যদিও গবেষকেরা জানিয়েছেন, মোট নির্গত মিথেনের তুলনায় ধ্বংস হওয়া মিথেনের পরিমাণ খুব বেশি নয়। তবু প্রকৃতি নিজেই কী ভাবে দূষণ কমানোর রাস্তা তৈরি করে, এই গবেষণা তারই এক বিরল উদাহরণ।

এই গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে Nature Communications পত্রিকায়। ভবিষ্যতে বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এই প্রাকৃতিক রাসায়নিক প্রক্রিয়া কাজে লাগানো যেতে পারে বলেও আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। তবে এই পদ্ধতি বাস্তবে কতটা কার্যকর ও নিরাপদ হবে, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

স্ট্রোকের পর কেমন আছেন রাহুল রায়? পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গুজবে মুখ খুললেন অভিনেতা

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *