‘আইন মেনে চলুন, জামিনের আবেদন করুন’, মিলনের রক্ষাকবচ খারিজ করে কী বলল হাই কোর্ট?

মিলনের রক্ষাকবচ খারিজ করে কী বলল হাই কোর্ট? নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতায় নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, শুক্রবার তা চ্যালেঞ্জ করে…

September 25, 2026
0 min read

মিলনের রক্ষাকবচ খারিজ করে কী বলল হাই কোর্ট?

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে আইনি জটিলতায় নতুন মোড়। কলকাতা হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ যে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, শুক্রবার তা চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দেয় বলে আদালত সূত্রে খবর। এর পাশাপাশি মিলনকে নিয়ম মেনে জামিনের আবেদন করার কথাও বলা হয়।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন কোনও মামলায় মিলনের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোও যাবে না। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে রাজ্য।

শুক্রবারের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, মিলন কেন আগাম জামিনের আবেদন করেননি? গ্রেফতারির পরেও কেন জামিন চাওয়া হয়নি? তাঁর বক্তব্য ছিল, নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া মানেই আইনি প্রক্রিয়া থেকে আলাদা কোনও সুবিধা পাওয়া নয়। আইন যে ভাবে চলে, সেই পথেই এগোতে হবে।

মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে জানান, পরিস্থিতি বদলে যায় ১৮ সেপ্টেম্বরের পর। তার আগে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল মিলনকে সমর্থনের কথা জানানোর পরেই নতুন করে আইনি পদক্ষেপ শুরু হয় বলে তাঁর দাবি। ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে জানান তিনি।

আইনজীবীর বক্তব্য, ভোটের আগে হাতে সময় কম থাকায় নতুন মামলায় জামিনের প্রক্রিয়া শুরু করার বদলে রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল। কারণ ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন এবং প্রচারের সময়সীমাও খুব কাছেই।

এর পরেই প্রধান বিচারপতি জানান, নির্বাচনের সময় থাকলেও আইনি প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় না। প্রয়োজন হলে ছুটির দিনেও আদালত বসতে পারে। তাঁর বক্তব্যের সারকথা ছিল, ভোটে লড়ার অধিকার থাকলেও আইনের নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

মিলনের আইনজীবী অবশ্য দাবি করেছেন, পুরনো মামলাগুলিতে দীর্ঘ সময় কোনও পদক্ষেপ হয়নি। রাজ্যের পাল্টা বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সেগুলি কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের দাবি, ২০০৭ সালের একাধিক মামলার মধ্যে কিছু মামলা আগের সরকারের আমলেই প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি হয়েছিল।

এর আগে মিলন ২০০৭ সালের একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। হাই কোর্ট অবশ্য জানিয়েছিল, জামিন পেলে তাঁকে নির্বাচনে লড়ার সুযোগ দিতে হবে।

ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মিলনের লড়াই এখন শুধু রাজনৈতিক ময়দানে নয়, আদালতেও। তবে তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপের যে অভিযোগ উঠেছে, তা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষগুলির দাবি; আদালতে তার চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।

রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?।

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *