‘আইএনএস তমাল’– বিদেশে তৈরি শেষ যুদ্ধজাহাজ, এবার আত্মনির্ভর ভারতের ‘সমুদ্র দুর্গ’ গড়ার যুগে প্রবেশ নৌসেনার

আইএনএস তমাল: বিদেশে তৈরি শেষ যুদ্ধজাহাজ! আর নয় বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়া—ভারতীয় নৌসেনা এবার সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ায় নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তমাল’ ভারতীয় নৌসেনার…

July 6, 2025
1 min read

আইএনএস তমাল: বিদেশে তৈরি শেষ যুদ্ধজাহাজ!

আর নয় বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়া—ভারতীয় নৌসেনা এবার সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে আত্মনির্ভর হয়ে উঠছে। এই ঘোষণার প্রেক্ষাপটেই রাশিয়ায় নির্মিত স্টেলথ ফ্রিগেট ‘আইএনএস তমাল’ ভারতীয় নৌসেনার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ভাষায়, এটি হবে ভারতের শেষ বিদেশে তৈরি রণতরী। এরপর থেকে ভারতেই গড়ে উঠবে এমন যুদ্ধজাহাজ, যা সমুদ্রেই হবে চলমান দুর্গ।

২০২৫ সালের ১ জুলাই রাশিয়ার ইয়ান্টার শিপইয়ার্ড থেকে নৌসেনার হাতে আসে এই অত্যাধুনিক ফ্রিগেটটি। নাম দেওয়া হয়েছে ‘তমাল’, যার উৎস পুরাণে দেবরাজ ইন্দ্রের তলোয়ার। এই নামেই যুদ্ধজাহাজটি বাহিনীতে যুক্ত হওয়ায় নৌসেনার শক্তি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তবে শুধুই নাম নয়, প্রযুক্তিতেও এই জাহাজ অত্যন্ত আধুনিক। ইউক্রেনীয় ইঞ্জিনসহ এতে রয়েছে ভূমি থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম ‘শিলের’ ক্ষেপণাস্ত্র, আটটি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে নির্মিত সুপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ মিসাইল, স্বয়ংক্রিয় কামান, টর্পেডো টিউব এবং ডুবোজাহাজ ধ্বংসকারী ব্যবস্থা। স্টেলথ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হওয়ায় এটিকে সহজে রাডারে ধরা পড়ে না, এবং ডুবিয়ে দেওয়া আরও কঠিন। কামোভ ২৮ ও ৩১ হেলিকপ্টারও সংযুক্ত এই রণতরীতে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এতে ভারতের অবদান প্রায় ২৬ শতাংশ, যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং সামরিক ইলেকট্রনিকস। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা এটিকে রাশিয়ার ক্রিভাক-৩ মডেলের আধুনিক রূপ বলছেন।

স্বাধীনতার পর থেকে ভারত ধাপে ধাপে যুদ্ধজাহাজ তৈরির দিকে এগিয়েছে। প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রণতরী ‘আইএনএস অজয়’ আসার পর ব্রিটেন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের সহযোগিতায় কিছু জাহাজ নির্মিত হয় বটে, কিন্তু দেশীয় উপাদানের অভাব প্রকট ছিল। সেই অভাব দূর করতে ১৯৬৪ সালে তৈরি হয় নৌ-নকশা অধিদপ্তর। এরপর ২০০৫ সালে খোলা হয় ‘ডিরেক্টরেট অফ ইন্ডিজেনাইজেশন’। ধীরে ধীরে দেশীয় উপাদানের অংশ ১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৭৫ শতাংশ ছুঁয়েছে।

২০২২ সালে দেশীয় প্রযুক্তিতে গঠিত বিমানবাহী যুদ্ধপোত ‘আইএনএস বিক্রান্ত’কে নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়াও ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এর ওজন ৪৫ হাজার টন—ভারতের ইতিহাসে তৈরি সবচেয়ে বড় রণতরী।

‘তমাল’-এর পরে আরও দুটি ফ্রিগেট—‘আইএনএস ত্রিপুট’ ও ‘আইএনএস তাভাস্যা’ তৈরি হচ্ছে গোয়া শিপইয়ার্ডে। ২০২৬ সালের মধ্যে ত্রিপুট বহরে যোগ দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ‘তমাল’-এর ওজন ৪,০৩৫ টন, গতি সর্বোচ্চ ৩০ নট (প্রায় ৫৬ কিমি/ঘণ্টা) এবং রেঞ্জ প্রায় ৮,৯৮০ কিমি। চালনায় লাগে ২৬ জন অফিসার ও ২৫০ জন নাবিক।

এই ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় নৌসেনা একে শুধু প্রযুক্তির জয় বলেই দেখছে না, বরং এটিকে আত্মনির্ভর ভারতের সামুদ্রিক শক্তির রূপ বলেই তুলে ধরছে। প্রতিরক্ষা দফতরের ভাষায়, “এটাই ভারতের সমুদ্র সীমার রক্ষাকবচ হয়ে উঠবে।”

গলওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সলমন খান! ভাইজানের নতুন ছবির পেছনে রয়েছে ভারতের সাহসী ইতিহাস

Follow us on Google News Get real-time updates & exclusive sports coverage
Follow

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *