রামোসের গোলে টিকে রইল রোনাল্ডোর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন!
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সংযুক্ত সময়ে জয়সূচক গোল করে পর্তুগালকে পরের রাউন্ডে তুলে দিয়েছেন Gonçalo Ramos। সেই গোল শুধু দলকেই জেতায়নি, বাঁচিয়ে রেখেছে অধিনায়ক Cristiano Ronaldo-র বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও। অথচ মাত্র আড়াই বছর আগেও ফুটবল মাঠে ফেরা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ছিলেন এই ২৫ বছরের স্ট্রাইকার।
সম্প্রতি AC Milan-এর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন রামোস। তার আগে তিন বছর খেলেছেন Paris Saint-Germain F.C.-এর হয়ে। তবে তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন লড়াই হয়েছিল মাঠের বাইরে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে অন্ত্রে গুরুতর ভাইরাল সংক্রমণে আক্রান্ত হন রামোস। দ্রুত ওজন কমতে শুরু করে, প্রবল জ্বর, বমি এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছিল যে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয় পিএসজির মেডিক্যাল টিম। পাশাপাশি তাঁর আগের চিকিৎসার নথি সংগ্রহ করা হয় প্রাক্তন ক্লাব S.L. Benfica-র কাছ থেকেও।
প্রায় ২০ দিন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী ছিলেন রামোস। শরীরে এতটাই দুর্বলতা ছিল যে তিনি শক্ত খাবার পর্যন্ত খেতে পারতেন না। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। বড়দিনের ছুটির সময় ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয় তাঁকে। সেই সময় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকাও তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। শিরায় ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা চলেছে দিনের পর দিন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি তিনি সংক্রমণমুক্ত হলেও সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ফেরার অনুমতি মেলেনি। মেডিক্যাল টিমের মতে, প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের ধাক্কা সামলানোর মতো শারীরিক অবস্থায় তখনও ছিলেন না তিনি। তাই তাঁর জন্য তৈরি করা হয় বিশেষ পুনর্বাসন কর্মসূচি, আলাদা ফিটনেস ট্রেনিং এবং নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা।
এর ফলে দীর্ঘ সময় প্রথম একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে রামোসকে। দলে ফিরলেও বেশিরভাগ ম্যাচে বদলি হিসেবেই সুযোগ পেয়েছেন। নিয়মিত খেলার আশায় শেষ পর্যন্ত ক্লাব বদলের সিদ্ধান্ত নেন, আর সেই সিদ্ধান্তই যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুলে দেয়।
আজ সেই রামোসই পর্তুগালের নায়ক। কঠিন অসুস্থতা, দীর্ঘ পুনর্বাসন আর অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর জয়সূচক গোল প্রমাণ করে দিল, লড়াই শুধু প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়— কখনও কখনও নিজের জীবনকেও হার মানাতে হয়।
রাহার জন্মের পর দ্রুত ওজন কমিয়ে কটাক্ষের শিকার আলিয়া, কী ছিল তাঁর রহস্য?