৫৫ বছর পরে অবশেষে ‘মুক্তি’!
৫৫ বছর ধরে থানায় হাজিরা দেওয়া — শুনতে অবিশ্বাস্য, তাই না? কিন্তু এটাই ছিল নবতিপর মিঠু সিংহের জীবনের বাস্তবতা। প্রতি মাসে একবার লাঠি ঠুকিয়ে থানায় হাজিরা দিতে যেতেন তিনি। রেজিস্ট্রার খাতায় সই, পুলিশের সঙ্গে দেখা, তারপর বাড়ি ফেরা — এই রুটিনই ছিল তাঁর জীবনের অংশ। কিন্তু অবশেষে মুক্তি পেলেন তিনি। পুলিশ জানাল, “আগামী মাস থেকে আপনাকে আর থানায় আসতে হবে না।”
মুহূর্তে চোখ ছলছল করে ওঠে বৃদ্ধের। কণ্ঠ কাঁপতে কাঁপতে বলেন,
“মানে… আমি এখন থেকে মুক্ত? আমি স্বাধীন?”
👮♂️ ৫৫ বছরের ‘হাজিরা’ গল্প
মিঠুর বয়স তখন মাত্র ৩৫। এক পাড়ার অশান্তিতে নাম জড়িয়েছিল তাঁর। মামলা দায়ের হলেও পরে মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু পুলিশের খাতায় সেই নাম থেকে যায়।
প্রতি মাসেই হাজিরা দিতে হত থানায়।
৫৫ বছর কেটে গেল— এখন তাঁর বয়স ৯০ পেরিয়েছে!
আগরার এই ঘটনাটি তুলে ধরেছে The Times of India এবং NDTV।
📋 তথ্য এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্তের নাম | মিঠু সিংহ |
| বয়স | ৯০+ বছর |
| মামলা দায়ের | ১৯৭০-এর দশকে |
| হাজিরা সংখ্যা | প্রায় ৬৬০ বার |
| পুলিশের সিদ্ধান্ত | নাম কেটে দেওয়া, হাজিরা বন্ধ |
| রাজ্য | উত্তরপ্রদেশ (আগ্রা) |
🚨 পুলিশের সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ
উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানায়, ৮০-৯০ বছর বয়সি এমন প্রায় ১৩০ জন প্রবীণের নাম তাদের খাতায় রয়ে গিয়েছিল।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, কয়েক দশক ধরে তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও অভিযোগ নেই।
সেই সঙ্গে মামলার প্রমাণও অপ্রতুল। তাই সব মামলাই বন্ধ করা হয়েছে।
👉 এ নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন Uttar Pradesh Police Official Website এ।
❤️ এক জীবনের ভারমুক্তি
মিঠু বলেন,
“আমার ছেলেমেয়েরা ছোটবেলা থেকেই দেখছে, আমি প্রতি মাসে থানায় যাই। এখন আমার নাতিনাতনিরাও জিজ্ঞেস করে — ‘বাবা, তুমি কী করেছিলে?’ আজ ওদের সামনে বলতে পারব, আমি মুক্ত!”
এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অর্ধশতকের এক মানসিক কারাবাসের গল্প।
👉 এমন মানবিক প্রতিবেদন আরও পড়ুন Technosports বাংলা লাইফস্টাইল বিভাগে।
🧩 উপসংহার
মিঠু সিংহের এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তির মুক্তির গল্প নয় — এটি এক প্রশাসনিক মানবিকতার প্রতীক।
৫৫ বছর পর পুলিশ অবশেষে বুঝল, আইনের খাতার ওপরে মানবতার পাতাই সবচেয়ে বড়।

