Sunday, November 30, 2025

২৩ বছর পর আইসি ৮১৪ অপহরণের চক্রীর মৃত্যু! করাচিতে খুন জহুর মিস্ত্রি — কী ভাবে হয়েছিল ভয়াবহ অপারেশন?

Share

২৩ বছর পর আইসি ৮১৪ অপহরণের চক্রীর মৃত্যু!

ভারতের ইতিহাসে আইসি ৮১৪ বিমান অপহরণ এমন এক দুঃসহ অধ্যায়, যা আজও জাতির স্মৃতিতে গভীর ক্ষত হয়ে আছে। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ওই অপহরণ কাণ্ডের পর ২৩ বছর কেটে গিয়েছে। এবার পাকিস্তানের করাচিতে খুন হল সেই ভয়ঙ্কর জঙ্গি জহুর মিস্ত্রি, যে ছিল এই অপহরণের অন্যতম মূল চক্রী।


🔥 করাচিতে অপারেশন: শেষ হল জহুরের কাহিনি

২০২২ সালের ১ মার্চের সকাল। করাচির এক গয়নার দোকানে বসেছিল জহুর। হঠাৎ একটি বাইক এসে দাঁড়ায়, নামেন দু’জন অচেনা ব্যক্তি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুলির শব্দ। পরে জানা যায়, পাকিস্তানের মাটিতেই খতম করা হয়েছে জহুর মিস্ত্রিকে — নিঃশব্দে, নির্ভুল পরিকল্পনায়।
(সূত্র: BBC News – Zahoor Mistry killed in Karachi)


✈️ কী হয়েছিল ১৯৯৯ সালে — এক নজরে

২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯, নেপালের কাঠমান্ডু থেকে নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল Indian Airlines IC 814। বিমানে ছিলেন ১৭৯ জন যাত্রী ও ১১ জন কর্মী। আকাশে উঠতেই শুরু হয় দুঃস্বপ্ন— পাঁচ জঙ্গি বন্দুক ও গ্রেনেড হাতে বিমানে দখল নেয়।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবিবরণ
বিমান নম্বরIC 814
তারিখ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৯
অপহরণকারীর সংখ্যা
মূল অভিযুক্তজহুর মিস্ত্রি
অবতরণ স্থানকন্দহর, আফগানিস্তান
মুক্ত জঙ্গিমাসুদ আজহার, ওমর শেখ, মুশতাক জারগার

জহুরের নেতৃত্বে জঙ্গিরা ভারত সরকারকে জিম্মি করে রাখে টানা ৭ দিন। তাঁদের দাবি ছিল ৩৬ জন বন্দিকে মুক্ত করা, যার মধ্যে অন্যতম ছিল জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার। অবশেষে যাত্রীদের প্রাণ বাঁচাতে ভারত সরকার বাধ্য হয় তিন জঙ্গিকে মুক্তি দিতে।

(অফিসিয়াল রেফারেন্স: Ministry of External Affairs – IC 814 Hijacking Report)


⚔️ কে ছিল জহুর মিস্ত্রি?

পাকিস্তানের নাগরিক জহুর মিস্ত্রি ছিল জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য। সংগঠনে তাকে ডাকা হত “ডক্টর” নামে।
জহুরই সেই ব্যক্তি, যিনি বিমানে যাত্রী রুপিন কাতিয়ালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। পরে তার এই নৃশংসতার কারণে ভারতীয় গোয়েন্দারা তাকে Most Wanted তালিকায় রাখে।


🇮🇳 দিল্লির অগ্নিপরীক্ষা

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী-র সরকার চরম চাপের মুখে পড়ে। ভারতের NSG কমান্ডোরা প্রস্তুত থাকলেও, তালিবান-নিয়ন্ত্রিত কন্দহরে অভিযান চালানোর সুযোগ ছিল না। ফলে তিন জঙ্গিকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি — যা ছিল ভারতের নিরাপত্তা ইতিহাসের এক কঠিনতম সিদ্ধান্ত।

(সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন: The Hindu – Kandahar Hijacking: 25 Years Later)


🧩 শেষ অধ্যায়: প্রতিশোধের ছায়ায় মৃত্যু

জহুরের মৃত্যু নিয়ে পাকিস্তান সরকার কোনও মন্তব্য না করলেও, আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়— সে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার নজরেই ছিল দীর্ঘদিন। করাচিতে তার মৃত্যুকে “targeted elimination” হিসেবে দেখা হচ্ছে।


🔗 আরও পড়ুন Technosports থেকে


🕯️ উপসংহার

২৩ বছর আগের সেই দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটেছে হয়তো করাচির গুলিতে, কিন্তু আইসি ৮১৪ অপহরণ ভারতের জাতীয় স্মৃতিতে চিরকাল অমোচনীয় হয়ে থাকবে।
জহুর মিস্ত্রির মৃত্যু হয়তো এক অধ্যায়ের শেষ, কিন্তু সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই এখনও চলছে — আরও দৃঢ় সংকল্পে, আরও নির্ভুল লক্ষ্য নিয়ে।

Read more

Local News