‘জেন বিটা’
প্রতিটি প্রজন্মের নিজস্ব এক বৈশিষ্ট্য থাকে, এবং তারা তাদের সময়ের প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে আমরা সাক্ষী হচ্ছি এমন এক নতুন প্রজন্মের জন্মের, যার নাম রাখা হয়েছে ‘জেন বিটা’। ২০২৫ সালে এসে যখন এই প্রজন্ম পৃথিবীতে পা রাখছে, তখন এটি আগের সমস্ত প্রজন্ম থেকে আলাদা ও নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসে। এই প্রজন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক প্রশ্ন উঠে আসছে, যেমন: তারা কেমন হবে এবং পূর্ববর্তী প্রজন্মের থেকে কতটা ভিন্ন?
বর্তমানে যাদের বয়স তিরিশের কাছাকাছি, তারা মনে করতেন যে, মিলেনিয়ালরা আধুনিকতার চূড়ান্ত প্রতিনিধি। ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে যারা জন্মেছেন, তারা প্রথম ইন্টারনেট দেখেছিল, প্রথমবার কম্পিউটার ব্যবহার করেছিল এবং প্রযুক্তির সাথে একেবারে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। তবে, এখন যখন ‘জেন বিটা’ এসেছে, তখন এই মিলেনিয়ালরা কিছুটা পুরনো হয়ে পড়েছে। তাদের চিন্তা ও মূল্যবোধে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন প্রজন্মের যাত্রা শুরু হলো এবং এর ফলে প্রযুক্তির যুগের নতুন অধ্যায় তৈরি হতে যাচ্ছে।
জেন বিটা: এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি
‘জেন বিটা’ নামটি গ্রিক অক্ষর বিটা থেকে এসেছে এবং এটি তাদের প্রযুক্তি নির্ভর জীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। এই প্রজন্ম এমন এক সময়ে জন্ম নিয়েছে, যেখানে পৃথিবী পুরোপুরি ডিজিটাল হয়ে গেছে। তাদের জীবনের প্রতিটি দিক—শিক্ষা, কাজ, সামাজিক সম্পর্ক—সব কিছুই প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। তারা এমন একটি প্রজন্ম, যারা ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনকে এমনভাবে ব্যবহার করবে, যা আগের প্রজন্মের কাছে চিন্তাভাবনার বাইরে ছিল।
এই প্রজন্মের সদস্যরা এমন এক পৃথিবীতে বেড়ে উঠবে যেখানে তারা ডিজিটাল পরিচয়ের জন্য আরও বেশি সচেতন থাকবে। এক্ষেত্রে, তাদের মানসিকতা এবং জীবনযাত্রার ধরণ পুরনো প্রজন্মের থেকে কিছুটা আলাদা হবে। ‘জেন বিটা’ তাদের ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করবে এবং কাজকর্মের ক্ষেত্রেও নতুন চিন্তা ভাবনা যোগ করবে।

পূর্ববর্তী প্রজন্মের তুলনায় আলাদা কেমন?
মিলেনিয়াল প্রজন্মকে ‘ডিজিটাল নেটিভ’ বলা হয়েছিল, কারণ তারা প্রথমবার ইন্টারনেট ব্যবহার করেছিল এবং ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে তাদের জীবন গড়ে তুলেছিল। তবে, ‘জেন বিটা’ সেই তুলনায় আরো বেশি আধুনিক, তারা এমন এক সমাজে বড় হচ্ছে যেখানে সবাই ডিজিটাল। তাদের জন্য শিক্ষা, কাজকর্ম, শখ সব কিছুই একত্রে প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।
যেখানে আগের প্রজন্ম বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যে জীবনযাপন করেছে, সেখানে ‘জেন বিটা’ তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে আরও সহজভাবে ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে ব্যতিক্রমীভাবে সংজ্ঞায়িত করবে। তারা হয়তো নিজেদের সামাজিক এবং পেশাগত পরিচয়কে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে। সমাজবিদ মার্ক ম্যাকক্রিন্ডল এমনটাই মনে করেন, যে ‘জেন বিটা’ ডিজিটাল পরিচয়কে আরও সুরক্ষিত এবং সচেতনভাবে ব্যবহার করবে।
প্রযুক্তির সঙ্গে বেড়ে ওঠা একটি নতুন প্রজন্ম
‘জেন বিটা’ একটি প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম, কিন্তু তাদের মধ্যে থাকবে এক নতুন বৈশিষ্ট্য: সবার সঙ্গে চলার গুণ। তারা শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করবে না, তারা এটি মানবিক এবং সামাজিক পরিবর্তনের জন্যও ব্যবহার করবে। এই প্রজন্ম নতুন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ স্থাপন করবে, যা আগে কখনো হয়নি। অতীতের প্রজন্ম যেমন ‘জেন এক্স’ বা ‘বেবি বুমার্স’ ছিলেন, তাদের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ছিল, তবে ‘জেন বিটা’ তাদের নিজস্ব একটি পরিচয় তৈরি করবে প্রযুক্তি এবং সামাজিক মেলবন্ধনের মাধ্যমে।
সমাপ্তি
২০২৫ সালে পৃথিবীতে এসেছে ‘জেন বিটা’, যারা আগের প্রজন্মের থেকে প্রযুক্তি এবং সামাজিক ধারণায় অনেকটা আলাদা। তারা বেড়ে উঠবে এমন এক সমাজে যেখানে ডিজিটাল মাধ্যম তাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে থাকবে। এই প্রজন্ম প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করবে, তবে তার সঙ্গে থাকবে মানবিক মূল্যবোধ এবং সম্পর্কের গুরুত্ব। ‘জেন বিটা’ শুধু নিজেদের পরিচয় তৈরি করবে না, তারা পৃথিবীকে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। তাদের ভবিষ্যৎ কি হবে, সেটি সময়ই বলবে, তবে একটি ব্যাপার নিশ্চিত: তারা আগামী প্রজন্মের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠবে।
কনের মুকুট ও ফুলের মালার সাজে শ্বেতা, ধারাবাহিকের সেটে আইবুড়োভাতে কী কী আয়োজন হল?

