হোটেলের বেআইনি অংশ ভাঙতে গেলে ‘বাধা’
হালিশহর পুর এলাকায় বৃহস্পতিবার একটি হোটেল ভাঙতে গিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, সরকারি জমি দখল করে ওই হোটেলের সামনের অংশ নির্মিত হয়েছে, যা হোটেলের প্রবেশ পথ এবং একটি মদের দোকানও অন্তর্ভুক্ত করে। এই এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ জানিয়েছিলেন যে, হোটেলে বিভিন্ন বেআইনি কাজ হয়ে থাকে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে হাই কোর্ট বেআইনি অংশটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়। তাই সেই অনুযায়ী পুরকর্মীরা এ দিন হোটেলটির বেআইনি অংশ ভাঙতে যান। তবে, হোটেলের কর্মীরা পুরকর্মীদের বাধা দেন, যার ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
হালিশহর শহরের ঘোষপাড়া রোডে অবস্থিত ওই হোটেলটি স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে বেশ পরিচিত। তবে অনেকের মতে, হোটেলটির কিছু অংশ বেআইনিভাবে নির্মিত এবং এখানকার কর্মকাণ্ডও সন্দেহজনক। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল যে, এই হোটেলে কিছু অনৈতিক কার্যকলাপও ঘটে, যা জনস্বার্থের পক্ষে ক্ষতিকর। এরই মধ্যে মামলার পর, হাই কোর্ট ওই হোটেলের বেআইনি অংশ ভাঙার নির্দেশ দেয়।
পুরকর্মীরা যখন ভাঙন অভিযান চালাতে যান, তখন হোটেল মালিক এবং তার কর্মীরা তাদের বাধা দেন। হোটেল মালিক টনি সিংহ দাবি করেন যে, তারা কোন বেআইনি নির্মাণ করেননি। তিনি আরও জানান, ‘‘এই হোটেলে মিঠুন চক্রবর্তী এসে থাকেন, এবং তিনি বিজেপির সমর্থক। এখানকার তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা এই কারণে ক্ষুব্ধ। রবিবার এখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও ছিল, কিন্তু এই অভিযান শুরু হওয়ার পর তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে।’’
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে হালিশহরের পুরপ্রধান শুভঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘বেআইনি নির্মাণ নিয়ে বহু বার হোটেল মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি কোনো গুরুত্ব দেননি।’’ তিনি আরও জানান, এই নির্মাণটি পুরোপুরি অবৈধ এবং হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে, তৃণমূলের বীজপুর বিধায়ক সুবোধ অধিকারী বলেছেন, ‘‘হাই কোর্টের নির্দেশে বেআইনি অংশটি ভাঙতে গিয়েছিল পুরকর্মীরা। হোটেলের মালিক এসব অবৈধ কার্যকলাপ চালিয়ে এসেছেন, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছে।’’ তিনি জানান, এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন এবং অবশেষে আদালতের মাধ্যমে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এই উত্তেজনার ঘটনায় যান চলাচলও বিঘ্নিত হয়েছে ঘোষপাড়া রোডে। এলাকার পরিবহণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিপর্যস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি হয়। তবে, পুরকর্মীরা শেষ পর্যন্ত তাদের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সংকল্প করেছিলেন।
এটি একটি গুরুতর পরিস্থিতি, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন এবং হোটেল মালিকের মধ্যে বিরোধ ছিল এবং এর মধ্যে সাধারণ মানুষের স্বার্থকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন ছিল। আগামী দিনে, এমন ধরনের ঘটনা রোধে আরও বেশি নজরদারি এবং সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
ইডেনে খেলেননি শামি, চেন্নাইয়ে কি খেলবেন? সতীর্থ আরশদীপের মন্তব্যে ধোঁয়াশা

