হাত নাড়াতে পারতেন না তিলক বর্মা!
ভারতের প্রতিশ্রুতিময় তরুণ ক্রিকেটার তিলক বর্মা একসময় প্রায় পক্ষাঘাতের মতো অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। হাত নাড়াতে পারতেন না, পা চলত না— শরীরের প্রতিটি পেশি যেন হারিয়ে ফেলছিল কাজ করার ক্ষমতা। কী এমন হয়েছিল তাঁর সঙ্গে? চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন এক বিরল পেশি-নাশকারী রোগে, যার নাম ‘র্যাবডোমায়োলিসিস’ (Rhabdomyolysis)।
⚕️ কী এই র্যাবডোমায়োলিসিস?
র্যাবডোমায়োলিসিস এমন এক বিরল রোগ যেখানে পেশির কোষ ভেঙে গিয়ে রক্তে মিশে যায়, এবং সেই ভাঙা কোষের উপাদান কিডনি, হার্ট এবং অন্যান্য অঙ্গকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
| কারণ | লক্ষণ | সম্ভাব্য বিপদ |
|---|---|---|
| অতিরিক্ত শরীরচর্চা | পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা | কিডনি বিকল হওয়া |
| দুর্ঘটনা বা চোট | প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়ে যাওয়া | পেশি অচল হয়ে যাওয়া |
| কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া | হাত-পা অসাড়তা | পক্ষাঘাতের মতো অবস্থা |
👉 আরও পড়ুন: ভারতের তরুণ তারকাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যাগুলি নিয়ে প্রতিবেদন
🧠 তিলক বর্মার অভিজ্ঞতা
তিলক জানিয়েছেন, প্রথম আইপিএল খেলতে গিয়ে তিনি লক্ষ্য করেন তাঁর পেশিতে অস্বাভাবিক ক্লান্তি।
শুরুতে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব দেননি। পরে বুঝতে পারেন, তাঁর পেশির গঠনই বদলে যাচ্ছে।
“একসময় আমার হাত নাড়ানোই অসম্ভব হয়ে পড়েছিল,” বলেন তিলক বর্মা।
তাঁর চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসকরা জানান, সময়মতো চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ।
এই রোগ থেকে সেরে ওঠার জন্য তিলককে কয়েক মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়, নিয়মিত ফিজিওথেরাপি এবং প্রোটিন-নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ করতে হয়।
🩺 কেন হয় এই রোগ?
র্যাবডোমায়োলিসিস সাধারণত হয় —
- অতিরিক্ত জিম ট্রেনিং বা শরীরচর্চা করার ফলে
- গরমে বা পানিশূন্যতায় দীর্ঘ সময় কাটালে
- কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ (Statins) বেশি খেলে
- অথবা বড় কোনও চোট বা সার্জারির পরে
👉 অফিসিয়াল তথ্যসূত্র অনুযায়ী National Institutes of Health (NIH) জানায়, র্যাবডোমায়োলিসিসের দ্রুত চিকিৎসা না হলে কিডনি বিকল হতে পারে।
🏋️♂️ প্রতিরোধে করণীয়
র্যাবডোমায়োলিসিস প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল শরীরের সীমাবদ্ধতা বোঝা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া।
| করতে হবে | করবেন না |
|---|---|
| ধীরে ধীরে ব্যায়ামের পরিমাণ বাড়ান | হঠাৎ অতিরিক্ত শরীরচর্চা শুরু করবেন না |
| পর্যাপ্ত পানি পান করুন | ডিহাইড্রেশন হতে দেবেন না |
| বিশ্রাম ও ঘুম নিশ্চিত করুন | ঘুমের ঘাটতি রাখবেন না |
| চিকিৎসকের পরামর্শ নিন | ব্যথা উপেক্ষা করবেন না |
👉 পড়ুন আরও: খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও ফিটনেস সচেতনতা নিয়ে TechnoSports-এর বিশ্লেষণ
🔚 উপসংহার
তিলক বর্মার এই লড়াই শুধু একজন ক্রিকেটারের শারীরিক সমস্যা নয়— এটি আমাদের সকলের জন্য একটি শিক্ষা। অতিরিক্ত পরিশ্রম সবসময় শক্তি বাড়ায় না, কখনও কখনও শরীরের ক্ষতিও ডেকে আনে।
নিয়মিত চিকিৎসক পরামর্শ, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামই পারে এই ধরনের বিরল অসুখ থেকে আমাদের রক্ষা করতে।

