স্বর্ণমন্দিরে আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র মোতায়েন হয়নি!
পাকিস্তানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির প্রাঙ্গণে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে—এমন দাবি ঘিরে মঙ্গলবার দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ালেও, শেষে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেই তা নাকচ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, শ্রী দরবার সাহিব বা স্বর্ণমন্দিরের আশেপাশে কোনও বিমান বিধ্বংসী কামান বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র মোতায়েন করা হয়নি।
সোমবার এবং মঙ্গলবার পরপর দুই সেনা আধিকারিক—মেজর জেনারেল কার্তিক সি শেষাদ্রি ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুমের ইভান ডি’কুনহা—দাবি করেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও পাক পাঞ্জাবের জঙ্গি ঘাঁটিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরুর পর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্বর্ণমন্দিরের দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়। সেই হামলা রুখতে এবং পবিত্র স্থানটিকে রক্ষায় বিমান বিধ্বংসী কামান মোতায়েন করা হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তাঁরা।
তবে এদিন সন্ধ্যায় সেনার তরফে এক বিবৃতিতে এই দাবি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করা হয়। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, “কিছু সংবাদমাধ্যমে স্বর্ণমন্দিরে বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু আমরা স্পষ্ট করে জানাচ্ছি—শ্রী দরবার সাহিব, অমৃতসর প্রাঙ্গণে এমন কোনও অস্ত্র মোতায়েন করা হয়নি।”
এই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় স্বর্ণমন্দিরের প্রধান গ্রন্থী জ্ঞানী রঘবীর সিংহের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে সেনার কোনও আধিকারিক যোগাযোগ করেননি। স্বর্ণমন্দিরে কোনও ধরনের সমরাস্ত্র রাখার বিষয়েও কোনও কথা হয়নি।” অথচ ডি’কুনহা দাবি করেছিলেন, প্রধান গ্রন্থীর অনুমতি নিয়েই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বসানো হয় এবং বহু বছর পর সম্ভবত প্রথমবার স্বর্ণমন্দিরের সব আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়, যাতে পাকিস্তানি ড্রোন শনাক্ত করা যায়।
এই অবস্থায় সেনার নিজস্ব বিবৃতি সেই দুই আধিকারিকের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত সুরে দাঁড়ায়, যা আরও প্রশ্ন তুলেছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত এই ধরনের স্পর্শকাতর বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রসঙ্গত, স্বর্ণমন্দির পাঞ্জাবের সর্বোচ্চ পবিত্র স্থানগুলির একটি, এবং তার ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। সেই স্থানকে কেন্দ্র করে যে কোনও ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড বা অস্ত্র মোতায়েনের খবর অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তাই এ নিয়ে সেনা ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি এবং বিরক্তিও।
শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী নিজেই যখন স্পষ্ট করে জানাল যে, স্বর্ণমন্দিরে কোনও ধরনের বিমান বিধ্বংসী কামান বা আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্র মোতায়েন করা হয়নি, তখন এই পুরো ঘটনা ঘিরে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—তা হলে প্রথমে এমন দাবি কেন করা হয়েছিল? কোনও অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি, না কি অতিরঞ্জিত বার্তা? উত্তর এখনও মেলেনি।
দেশপ্রেমের নজির: ৫০ লক্ষের প্রস্তাব ফিরিয়ে রাহুল বৈদ্যের তুরস্কে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত

