সুপ্রিম কোর্টে স্থগিতাদেশ
সুপ্রিম কোর্ট সাম্প্রতিক এক রায়ে দেশের সমস্ত মন্দির, মসজিদ এবং গির্জা সংক্রান্ত সমীক্ষা আপাতত স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে এই বিষয়ে নতুন কোনো মামলা গ্রহণ করা যাবে না। আদালত জানিয়েছে, প্রথমে ইতিমধ্যে চলমান মামলাগুলির নিষ্পত্তি হবে, তারপর নতুন মামলার অনুমতি দেওয়া হতে পারে।
১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন পরিবর্তন নিয়ে একাধিক মামলা সুপ্রিম কোর্টে দায়ের হয়েছিল। সাড়ে তিন বছর পর এই মামলার শুনানি হয় গত বৃহস্পতিবার। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, দেশের নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্টগুলিও আপাতত এই বিষয়ে কোনো নতুন মামলা শুনতে পারবে না।
১৯৯১ সালের আইন এবং মামলাকারীদের দাবি
উপাসনাস্থল আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্টের পরিস্থিতি অনুযায়ী মন্দির, মসজিদ বা গির্জার চরিত্র অপরিবর্তিত রাখতে হবে। অর্থাৎ স্বাধীনতার সময় যে ধর্মীয় স্থাপনা যে অবস্থায় ছিল, তা বদলানো যাবে না। এই আইনের বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা হয়েছিল। মামলাকারীদের বক্তব্য, এই আইন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২২৬ অনুযায়ী তাদের দাবিগুলি আদালতে উপস্থাপন করতে বাধা দেয়।
তাদের দাবি, ১৯৪৭ সালের আগের দখলীকৃত ধর্মীয় স্থানের চরিত্র পরিবর্তনের সুযোগ থাকা উচিত। তাই আইন পরিবর্তনের আবেদন জানিয়ে মামলাকারীরা সুপ্রিম কোর্টে যায়।
শীর্ষ আদালতের সর্বশেষ নির্দেশ
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি পিভি সঞ্জয় কুমার ও কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করেন। আদালত জানিয়েছে, বর্তমানে মন্দির-মসজিদ সংক্রান্ত কোনো সমীক্ষা বা বিচারাধীন মামলা স্থগিত থাকবে।
তাছাড়া, নিম্ন আদালতগুলি যেন এ বিষয়ে কোনো নতুন মামলা গ্রহণ না করে বা ইতিমধ্যে চলমান মামলায় কোনো তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেয়, সে বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট তলব
সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই বিষয়ে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেছে। আদালত তাদেরকে একটি রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের মার্চ মাসে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে তাদের মতামত জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্র বারবার সময় চাওয়ায় মামলার শুনানি পিছিয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত সরকার নিজেদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট করেনি।
মামলার ভবিষ্যৎ কী?
এই মামলার ফলে মন্দির-মসজিদ সংক্রান্ত যেকোনো নতুন সমীক্ষা বা বিতর্ক আপাতত স্থগিত। তবে, সুপ্রিম কোর্টে মামলাগুলির নিষ্পত্তির পরই বিষয়টি এগোবে।
উপাসনাস্থল আইনের বর্তমান অবস্থা পরিবর্তন করা হবে কি না, তা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। এই আইন সংবিধান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। তবে এর বিরোধিতাকারীরা বলছেন, তাদের ধর্মীয় অধিকার এতে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
সামাজিক ও আইনি প্রভাব
উপাসনাস্থল আইন নিয়ে চলমান বিতর্ক ভারতীয় সমাজের ধর্মীয় বৈচিত্র্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত সাময়িক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে, এই আইনের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করছে আদালত এবং কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের উপর।

