কসবার আইন-শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কসবা থানার সামনে বিক্ষোভে নামল কংগ্রেস। সম্প্রতি শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একজন পুরপ্রতিনিধিকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে আক্রমণ করার চেষ্টার ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিক্ষোভ সংগঠিত হয়।
বিক্ষোভে নেতৃত্বে কারা ছিলেন?
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজিত হয়। বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ প্রসাদ এবং আরও অনেকে।
প্রদীপ প্রসাদ অভিযোগ তোলেন, “কলকাতা পুলিশ ভিন্ রাজ্য থেকে অস্ত্র ও ‘সুপারি কিলার’ আমদানি আটকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।” বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের অতীত ঘটনার উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, কলকাতা শহরে ক্রমশ বেড়ে চলা অপরাধ এবং দুষ্কৃতীদের দাপট এখন চরমে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দু:
কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতপুষ্ট কিছু দুষ্কৃতী নিয়ম বহির্ভূতভাবে জলাজমি ভরাট করে ‘প্রোমোটার-রাজ’ কায়েম করেছে। এই চক্র শহরের আইন-শৃঙ্খলাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভে কংগ্রেসের আরেকটি গুরুতর অভিযোগ ছিল পুলিশের নিরপেক্ষতার অভাব নিয়ে। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন যে, পুলিশ প্রশাসন শাসক দলের হয়ে কাজ করছে এবং সুষ্ঠু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
‘সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?’
কংগ্রেস নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “শহরের মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারছেন না। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অপরাধের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর দায় কে নেবে?”
তাঁদের মতে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেওয়ার পরিবর্তে প্রশাসন দলীয় রাজনীতিতে লিপ্ত।
ভবিষ্যতের কর্মসূচি
বিক্ষোভ শেষে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানায়, তারা এই বিষয়ে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবে। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এই সমস্যাগুলির সমাধান না হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক কর্মসূচি নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
কলকাতার আইন-শৃঙ্খলা: চিন্তার বিষয়
কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ শহরের আইন-শৃঙ্খলা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসন কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, সেই নিয়ে বিতর্ক চলছেই।
কংগ্রেসের বিক্ষোভের বার্তা একটাই— রাজনীতি নয়, মানুষের সুরক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে প্রশাসনকে।

