Monday, December 8, 2025

শীত ভাল করে না পড়তেই চোখরাঙানি ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া

Share

চোখরাঙানি ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া

হালকা ঠান্ডা পড়ার মধ্যেই কলকাতায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। এ বছরের শীতের শুরুতেই ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া— দু’টি রোগের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এডিস মশা বাহিত ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া এখন একসঙ্গে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি অনেক রোগী একসঙ্গে দু’টি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। যতদিন শীত জাঁকিয়ে পড়ছে না, ততদিন এ দুটি রোগের প্রকোপ অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বছর জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। যদিও সরকারিভাবে কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি, তবে বেসরকারি সূত্রের দাবি, চলতি মাসেই অন্তত পাঁচ-ছ’জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ১১ নভেম্বর কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত পূর্ণিমা পৈলান (৫৬) ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর আগে ২৯ নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে দু’জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মারা যান— কাশীনাথ মণ্ডল (৪২) এবং গায়ত্রী পাত্র (৫৪)। হাসপাতাল সূত্রের খবর, তাঁদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গি সংক্রমণ চিহ্নিত হয়েছে।

ডেঙ্গির সঙ্গে এবার চিকুনগুনিয়ার প্রকোপও বাড়ছে। সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হাওড়া, ব্যারাকপুর, সোদপুর, দমদম, কসবা, যাদবপুর, টালিগঞ্জসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। চিকুনগুনিয়া এবং ডেঙ্গি— এই দুটি রোগের উপসর্গ প্রায় একইরকম হয়, তবে রক্ত পরীক্ষা করলেই রোগটি চিহ্নিত করা সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষায় দুটি রোগই পাওয়া যাচ্ছে।

সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ যোগীরাজ রায় বলেন, “চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ কিছু বছর পর পর বেড়ে যায়। এবারে এই রোগের প্রকোপ বেড়েছে, এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদি জ্বরের সঙ্গে অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে, তবে ওই রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা না দিলে এটি দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে।” তিনি আরও জানান, অনেক ক্ষেত্রে ডেঙ্গির পরীক্ষার পর চিকুনগুনিয়া শনাক্ত করতে হয়, এবং এর জন্য যথাযথ অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক সৌমিত্র ঘোষ জানান, “ডেঙ্গির সঙ্কটকালীন পর্যায়ে রক্তরস বেরিয়ে বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ঢুকে রোগী আরও সংকটজনক হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, চিকুনগুনিয়ায় অস্থিসন্ধিতে মারাত্মক ব্যথা হয়। যদি দুটি রোগ একসঙ্গে ধরা পড়ে, তবে বয়স্ক ও শিশুদের জন্য এটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।” চিকুনগুনিয়ায় তীব্র জ্বরের সঙ্গে গাঁটে ব্যথা, র‌্যাশের উপসর্গও দেখা দেয়। সেই র‌্যাশ থেকে প্রচণ্ড চুলকানি হয় এবং চামড়া শুকানোর সময় উঠে যেতে পারে।

এডিস মশার বংশবিস্তার ঘটে জমা জল থেকে। কিন্তু এখন বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকলেও মশাবাহিত রোগের প্রকোপ কেন বাড়ছে? জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ দলুই জানিয়েছেন, “শীত পড়া শুরু হলেও ডেঙ্গি বা চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ পুরোপুরি চলে যাবে, এমন নয়। কারণ, এডিস মশা সাধারণত দুই থেকে চার সপ্তাহ বাঁচে। মশা একজন আক্রান্তকে কামড়ানোর পরে অন্তত দুই থেকে তিন সপ্তাহ জীবাণু বহন করে। ফলে, রোগের প্রকোপ এখনও বিদ্যমান। তবে, তাপমাত্রা কমে গেলে মশার আয়ুও কমে যাবে।”

এদিকে, চিকিৎসকরা নাগরিকদের মশার কামড় থেকে বাঁচতে সাবধানতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। জমে থাকা জল পরিষ্কার করার পাশাপাশি মশারি ব্যবহার ও বিভিন্ন মশার প্রতিকারক উপাদান ব্যবহার করতে পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা, যাতে এই রোগের প্রকোপ আরও না বাড়ে।

Read more

Local News