Monday, December 8, 2025

শিল্পমুখী কোর্সের খসড়া ইউজিসির, উঠছে প্রশ্নও

Share

শিল্পমুখী কোর্সের খসড়া ইউজিসির

ইউজিসি (বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন) উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করার জন্য একটি খসড়া গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় এই গাইডলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত বিষয়গুলির উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, ছাত্রছাত্রীদের শুধু শিক্ষাগত জ্ঞানই নয়, বরং ব্যবহারিক এবং শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের চাকরির বাজারে যোগ্য করে তোলা। তবে, এই কোর্স চালুর প্রস্তাব নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন এবং উদ্বেগও দেখা যাচ্ছে।

দক্ষতাভিত্তিক কোর্সের লক্ষ্য

এই গাইডলাইনের মূল উদ্দেশ্য হল, ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতে শুধুমাত্র সাধারণ ডিগ্রি কোর্সের পাশাপাশি এমন ছোট কোর্স চালু করা যাতে ছাত্রছাত্রীরা প্রযুক্তি, শিল্প এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো বিষয়গুলির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, কোর্সগুলো অনলাইন বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে চালানোর জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের কোর্স শুরু করতে, কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকার, শিল্প সংস্থা এবং প্রযুক্তি পার্কগুলির সহায়তা নেওয়ারও প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে, এই কোর্সগুলির সফল বাস্তবায়ন এবং এর অর্থনৈতিক দিক নিয়ে শিক্ষক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

ইউজিসির

আর্থিক সহায়তা এবং বাস্তব সমস্যা

এই গাইডলাইন প্রকাশের পর, বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের মতে, এই ধরনের কোর্স চালু করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা এবং পরিকাঠামো নেই। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “ইউজিসি কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে নিত্যনতুন নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পরিকাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা অর্থায়নের কোনও দিক থেকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়া কমছে এবং তারা এমনিতেই সংকটের মধ্যে রয়েছে। পরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা না দিয়ে এ ধরনের কোর্স চালু করা কার্যত অসম্ভব।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সনাতন চট্টোপাধ্যায়ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “ইউজিসির নির্দেশনার মাধ্যমে যেন মনে হচ্ছে, ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির একমাত্র উদ্দেশ্য হল শিল্প-কারখানার জন্য শ্রমিক সরবরাহ করা। গবেষণা এবং উন্নতির কাজগুলিকে একেবারে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পক্ষেত্রকে এই কোর্স চালানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, কিন্তু তারা নতুন পাশ করা ছাত্রদের প্রশিক্ষণের খরচও বহন করতে চায় না। সরকার যেন এই বিষয়টি স্বীকৃতি দিচ্ছে।”

সরকারের ভূমিকা এবং শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যত

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউজিসির খসড়া গাইডলাইন উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। শিল্পমুখী দক্ষতাভিত্তিক কোর্স চালু করায় শিক্ষাব্যবস্থার গভীরতার উপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, এবং এসব কোর্সের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এবং আর্থিক সহায়তা কতটা পাওয়া যাবে—এগুলি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে, ইউজিসির চেষ্টার মধ্যে একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য রয়েছে—ছাত্রছাত্রীদের বাস্তব দুনিয়ার চাকরির জন্য প্রস্তুত করা। কিন্তু এক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার অভাব এবং সরকারের নীতিগত পদক্ষেপের উপর নির্ভরশীলতা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতীয় উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যতকে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিতে পারে, তবে তা একমাত্র সম্ভব হবে যদি উপযুক্ত পরিকল্পনা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা করা হয়।

রুপোলি রাংতায় মোড়া সোনালি রাত! বর্ষবরণের পার্টিতে কেমন সাজে ধরা দিলেন নীতা অম্বানী?

Read more

Local News