Monday, December 8, 2025

লেবাননের রকেট হামলায় ইজ়রায়েল উত্তপ্ত: সাত জনের মৃত্যু, নেতানিয়াহুর প্রতিশ্রুতি

Share

লেবাননের রকেট হামলায় ইজ়রায়েল উত্তপ্ত

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে যখন আমেরিকার কূটনীতিকরা বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে লেবানন এবং ইজ়রায়েল। সম্প্রতি লেবানন থেকে ইজ়রায়েলে পর পর রকেট হামলা হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হামলার ফলে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে চার জন বিদেশিও রয়েছেন।

ইজ়রায়েল সেনা সূত্রে জানা গেছে, ২৫টি রকেট হামলা পরিচালনা করা হয়েছে লেবানন থেকে, লক্ষ্য ছিল ইজ়রায়েলের একটি সেনাঘাঁটি। হামলার সময় সেখানে কিছু শ্রমিক জলপাইয়ের বাগানে কাজ করছিলেন। এই হামলার পর, ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তারা এর উপযুক্ত প্রতিশোধ নেবে।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ইজ়রায়েল ও হামাসের মধ্যে চলা সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এই হামলা ঘটেছে। লেবাননের হামলার বিষয়টি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, যেখানে ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। কিছু সময়ের জন্য শান্তির সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি যে আবার উত্তপ্ত হয়েছে, তা স্পষ্ট।

লেবানন এবং ইজ়রায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান। ইজ়রায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে ঢুকে হিজ়বুল্লার একাধিক ঘাঁটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে। তারা বলছে, হিজ়বুল্লার নেতা হাসান নাসরাল্লার মৃত্যু হয়েছে। নতুন নেতা নঈম কাশেমকেও হুমকি দিয়েছে ইজ়রায়েল। এই সবকিছুর মধ্যে বৃহস্পতিবার কাশেম বলেছেন, যদি ইজ়রায়েল আলোচনা চায়, তবে তাদের জন্য আলোচনা করার রাস্তা খোলা আছে।

এদিকে, হামলার পর ইজ়রায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা প্রতিশোধ নেবে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, হিজ়বুল্লা হয়তো একটি নরম সুরে কথা বলছে, কিন্তু তাদের হামলার ইচ্ছা রয়েছে। কাশেমের বক্তব্যের পর এই হামলা আরও একবার প্রমাণ করেছে যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার আশার মধ্যে বিরূপ পরিস্থিতি বিরাজমান।

আমেরিকার কূটনীতিকরা যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন, তা বর্তমানে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। যদিও লেবাননের হামলায় হতাহতের ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রচেষ্টাকে কঠিন করে তুলবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতিতে, হিজ়বুল্লার পক্ষ থেকে আরো হামলার হুমকি থাকছে। গ্রামীণ অঞ্চলের মানুষজন এবং শ্রমিকরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। ইজ়রায়েলি সরকার এই হামলার প্রতি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এবং মনে হচ্ছে, এই সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

Read more

Local News