Monday, December 8, 2025

লড়াইয়ের দিনগুলো মনে পড়লে খুব ভয় করে, হাত-পা কাঁপে! এখনও ভুগি নিরাপত্তাহীনতায়: মিঠুন চক্রবর্তী

Share

মিঠুন চক্রবর্তী

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা তাঁর নতুন বাংলা ছবি ‘সন্তান’-এর প্রচারের মাঝেই আনন্দবাজার অনলাইনের সঙ্গে কথা বললেন সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী। বেঙ্গালুরু থেকে এক সন্ধ্যায় ভিডিও কলে একান্ত আলাপচারিতায় অভিনেতা জানালেন তাঁর শৈশব, সুপারস্টার হওয়ার পথ, স্ট্রাগলের কঠিন দিন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তিনি বললেন, ‘‘তাঁকে হাতের নাগালে পাওয়া কঠিন, কিন্তু আজকের আড্ডায় মনে হল, তিনি যেন নিজের খোলস ছেড়ে আরও বেশি করে খোলামেলা কথা বলছেন।’’

শুরুটা ছিল কঠিন

মিঠুন চক্রবর্তীর জীবনের শুরুর দিনগুলো ছিল অত্যন্ত সংগ্রামী। তাঁর বাবা বসন্তকুমার চক্রবর্তী ছিলেন একেবারে কড়া। ‘‘তখন মনে হত, বাবা যেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভিলেন। কিন্তু এখন বুঝি, যদি বাবা কড়া না হতেন, তাহলে আমি হয়তো মিঠুন চক্রবর্তী হতে পারতাম না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ যদি কিছু হয়, সেটা আমার বাবা।’’

বাবা-মায়ের শিক্ষা ও মূল্যবোধ

‘সন্তান’ ছবির মাধ্যমে বাবা-ছেলের সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরা হয়েছে। মিঠুন বলেন, ‘‘আমরা ভাবতাম, মা-বাবা যা শিক্ষা দেন, সেটাই শ্রেষ্ঠ। কিন্তু এখন সমাজ বদলে গিয়েছে। অনেক মূল্যবোধ আমরা হারিয়ে ফেলেছি। আজকাল অনেক মা-বাবার প্রতি যে অশান্তি হচ্ছে, তা আমাদের ছবিতে তুলে ধরেছি।’’

পরিবারের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক

মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর পরিবারে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রাখেন। ‘‘আমার সন্তানদের সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের সম্পর্ক।’’ যদিও তাঁর মেয়ে দিশানী চক্রবর্তী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে বকাবকি করেন। ‘‘আমার একটাই মেয়ে, তাই কিছু করার নেই,’’ মিঠুন হাসতে হাসতে বলেন। তাঁর ছেলেমেয়েরা তাঁর প্রতি দায়িত্বশীল হলেও, তিনি বুঝতে পারেন যে, তাঁরা নিজেই জীবনের কঠিন লড়াইগুলো কাটাচ্ছে। মিঠুন তাঁর সন্তানদের বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের নিজের লড়াই লড়তে হবে, আমি কখনোই সুপারিশ করব না।’’ তাঁর ছেলে মিমো এবং নমশি বর্তমানে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছেন এবং তাঁদের সফলতাতেও মিঠুন গর্বিত।

অভিনয়ের প্রস্তুতি ও আক্ষেপ

মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর দীর্ঘ কেরিয়ারে সাড়ে তিনশোরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। তবে তিনি বলেন, ‘‘এখনো চরিত্রের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়।’’ তিনি আরও জানান, ‘‘এটা মনে রাখতে হয় যে, প্রতি চরিত্র এক রকম নয়। ’প্রজাপতি’র বাবার চরিত্র যেমন ছিল, ‘সন্তান’-এর চরিত্রটা ঠিক তেমন নয়।’’

এছাড়া, মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ‘‘আমার মধ্যে কোনও আক্ষেপ নেই। কারণ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য আমি ছুটি নিয়ে অনেক দেশ ঘুরেছি। আদর দিয়ে সন্তানদের মাথায় তুলতে পারিনি, তবে তারা আমাকে ভালবাসে, শাসনও পেয়েছে।’’

পারিবারিক মূল্যবোধ এবং শাসন

মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আমার স্ত্রী পিঙ্কি একা হাতে আমাদের পরিবারকে আগলে রেখেছেন। আমি যখন শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকতাম, তখন তিনি সব কিছু সামলাতেন।’’ তবে, কখনো কখনো তাঁর স্ত্রীও তাঁকে বকাবকি করেন, বিশেষত যখন তিনি বেশি কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। ‘‘এখন তো একটু ভয় পেতে শুরু করেছি,’’ মিঠুন হাসতে হাসতে বলেন।

সুপারস্টার হওয়ার পেছনে লড়াই

মিঠুন চক্রবর্তী জানালেন, ‘‘শুরুর দিকে অনেক ঝুঁকি নিয়েছিলাম। কিন্তু মনে মনে ঠিক করেছিলাম, আমি স্টার হব, আমাকে পারতেই হবে। আমার গায়ের রং আমাকে পিছিয়ে দিচ্ছিল, তবে আমি সেটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলাম।’’

তাঁর জীবনের লড়াই ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। মিঠুন বলেন, ‘‘বয়স হলেও এখনো নতুন চরিত্রে কাজ করার জন্য আগ্রহী। আমার মোটিভেশন এখনো রয়েছে।’’

নিরাপত্তাহীনতার ভয়

সাক্ষাৎকারের শেষে মিঠুন বলেন, ‘‘যখন আমি আমার সংগ্রামের দিনগুলো ফিরে দেখি, তখন খুব ভয় লাগে। হাত-পা কাঁপে! মনে হয়, যেন সেই জীবন আবার ফিরে না আসে। আমি চাই না, আমার ছেলেমেয়েরা আমার মতো কষ্ট পায়।’’

অতীতের সেই কঠিন সময়গুলো এখনও মিঠুন চক্রবর্তীকে তাড়া করে। তবে, তিনি যা পেয়েছেন, তার মধ্যে অনেক কিছুই ছিল তার নিজের লড়াইয়ের ফল।

Read more

Local News