রেশমি রাস্তা’য় কাঁটা বিছোনোর ছক
এবার ভারত নিয়ে পোরানো একটি স্বপ্ন বাণিজ্যপথ পুনরূজ্জীবনের দিকে নেচের প্রস্তাব নিতেশ নয়াদিল্লি। সিল্ক রুট’র পাল্টা ‘কটন রুট’ প্রকল্পে সংযোগ সম্মতিতি স্পষ্ট করেছে ভারতীয বাণিজ্য বিশেষগ্গরারা করেছেন অনেক শা‘সিল্ক রুট’-এর পাল্টা ‘কটন রুট’: চালবাজ চিনের বাণিজ্য পরিকল্পনার মোকাবিলায় ভারতের নতুন উদ্যোগ
ভারতীয় বাণিজ্যে প্রাচীন পথগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে ভারত এবার চিনের ‘সিল্ক রুট’-এর বিপরীতে ‘কটন রুট’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ চালবাজ চিনের অর্থনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।
প্রাচীন পথের পুনর্জন্ম
ভারতের প্রাচীন বাণিজ্যপথগুলির মধ্যে অন্যতম ‘কটন রুট’। ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দী থেকেই এই পথ ধরে উন্নতমানের তুলো মধ্য এশিয়া, লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দর এবং ইউরোপে রপ্তানি হত। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া এই পথ নতুন করে গড়ে তুলতে ভারত পাশে পেয়েছে ইতালিকে। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রাচীন এই বাণিজ্যপথ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।
চিনের সিল্ক রুটের বিপরীতে কটন রুট
চিনের ‘সিল্ক রুট’ প্রকল্পের সূচনা হয় ২০১৩ সালে। ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়িত করছে বেজিং। এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা এই পথ চিনকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্য নিয়েই পরিচালিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এর পাল্টা হিসাবেই ভারত গড়ে তুলছে ‘কটন রুট’। এই পথের মাধ্যমে ভারত পশ্চিম এশিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে চায়। ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের একজন শীর্ষ কর্তার মতে, “কটন রুটের মাধ্যমে আমরা বাণিজ্যিক স্বার্থে সহযোগিতা বাড়াতে চাই, আধিপত্য কায়েম করতে নয়।”
ইতালির সঙ্গে সহযোগিতা
ইতালি এই প্রকল্পে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী। ইতালির শিল্পমন্ত্রী অ্যাডলফো উরসো জানিয়েছেন, সমুদ্র বন্দরের পরিকাঠামো উন্নতি এবং জাহাজ নির্মাণে ভারত ও ইতালির যৌথ উদ্যোগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ভারতের ‘কটন রুট’ ইতালির ‘মেড ইন ইটালি ২০৩০’ প্রকল্পের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কটন রুটের গঠন
ভারতের কটন রুটের মধ্যে থাকবে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং ইরানের মতো পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলি। ইরানের চাবাহার বন্দর এই পথে একটি কৌশলগত কেন্দ্র হয়ে উঠবে। এছাড়া, সমুদ্র এবং রেলপথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বাণিজ্যপথের পরিকাঠামো আরও মজবুত করা হবে।
সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
কটন রুটের সম্ভাবনা বিশাল। ভূমধ্যসাগর ও ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্য সংযোগ স্থাপন করা এর লক্ষ্য। ‘ইস্ট এশিয়া ফোরাম’-এর মতে, এই পথে ৪৭ লক্ষ কোটি ডলারের জিডিপি সমতুল্য বাণিজ্য হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, যেমন পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, এই প্রকল্পের অগ্রগতিতে প্রভাব ফেলছে।
ভবিষ্যৎ দিশা
জি-২০ সম্মেলনের পর কটন রুট প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে। পশ্চিম এশিয়া-ইউরোপ করিডোরের মাধ্যমে ভারত ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দেশেও পণ্য রপ্তানি সহজ করতে চাইছে। ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
চিনের সিল্ক রুট ইতিমধ্যেই অনেকটা অগ্রসর হলেও, ঋণে জর্জরিত দেশগুলি এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করায় এটি দীর্ঘমেয়াদে সমস্যায় পড়তে পারে। কটন রুটের মাধ্যমে ভারত এবং ইতালির অর্থনৈতিক সহযোগিতা এই চ্যালেঞ্জকে আরও তীব্র করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

