Monday, December 8, 2025

রাহুল গান্ধী কি সংসদে ধাক্কাধাক্কি করেছিলেন? বিজেপির এফআইআরের তদন্তভার দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখাকে

Share

রাহুল গান্ধী

বৃহস্পতিবার সংসদে শাসক-বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তার পরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তারা দাবি করেছে, রাহুল গান্ধী সংসদে তাদের দুই সাংসদকে ধাক্কা দিয়েছেন, যার ফলে ওই সাংসদদের মধ্যে একজনের মাথায় চোট লেগেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে।

তদন্তের জন্য দিল্লি পুলিশ অপরাধদমন শাখাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এফআইআর দায়েরের পর পুলিশ এই ঘটনার গভীর তদন্ত করবে এবং এর সাথে জড়িত সকল বিষয় খতিয়ে দেখবে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় এই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ডিসিপি (অপরাধ) সঞ্জয়কুমার সইন জানিয়েছেন, অপরাধদমন শাখার ইন্টারস্টেট সেল এই ঘটনার তদন্ত করবে এবং এসিপি রমেশ লাম্বার নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ দল তদন্তের দায়িত্বে থাকবে।

বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, সংসদে তর্কাতর্কি চলাকালীন রাহুল গান্ধী কোনও রকমের শারীরিক আক্রমণ করেছেন। তবে কংগ্রেস পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। কংগ্রেসের দাবি, রাহুল গান্ধী কোনও ধরনের শারীরিক আক্রমণ করেননি এবং বিজেপির অভিযোগ শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলছে, সরকার বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে চাপা দিতে এমন অভিযোগ এনেছে।

এই ঘটনা সম্পর্কে সঞ্জয়কুমার সইন আরও জানান, অপরাধদমন শাখা ইতিমধ্যে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করেছে এবং তাদের তদন্ত শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তদন্তকারী দলের প্রধান এসিপি রমেশ লাম্বা জানিয়েছেন, দল দ্রুত সব তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবে এবং সব দিক খতিয়ে দেখবে।

এফআইআর দায়ের হওয়ার পর, তদন্তের ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশের কাজ কেমন হতে পারে, তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলি শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্যবহার হচ্ছে কি না। বিশেষ করে যখন ভারতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এতটা তীব্র, তখন এ ধরনের অভিযোগের তদন্ত কি সঠিকভাবে হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

বিজেপি অবশ্য জানিয়েছে, সংসদে শাসক-বিরোধী পক্ষের সংঘর্ষ খুবই গুরুতর বিষয়। তারা বলছে, একজন উচ্চপদস্থ নেতা সংসদে যদি এমন আচরণ করেন, তবে সেটি শুধু সংসদীয় শিষ্টাচারের জন্যই নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইন-শৃঙ্খলার জন্যও বিপজ্জনক। তবে কংগ্রেস এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং বলছে, এটি শুধুমাত্র বিরোধীদের দমন করার একটি কৌশল।

এদিকে, এই ঘটনায় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী এবং বিজেপির সাংসদদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও শারীরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় পক্ষের ভাষ্যমতে, সংসদে এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্রের প্রতি আস্থাহীনতা তৈরি করতে পারে, এবং এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধিতা আরও তীব্র হতে পারে।

এখন দেখার বিষয় হল, দিল্লি পুলিশ এই তদন্তে কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তে বেরিয়ে আসা সত্যের ভিত্তিতে কি কোনো ফলাফল আসে। সংসদে এমন ঘটনা যে কোনও পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, তা এখন আর অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

Read more

Local News