রাজ্যপালের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও সমাবর্তন ঘিরে তৈরি হল উত্তেজনার পরিবেশ। মঙ্গলবার সকালে, রাজ্যপালের অনুমোদন ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথা অনুযায়ী সকালে প্রথমে কোর্ট বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও, এই বৈঠকের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজভবন।
রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই সংঘাত চলছে। রাজভবন সূত্রে জানানো হয়, কোর্ট বৈঠকের আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফোন করে বৈঠকের আইনি বৈধতা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। তবুও, নির্ধারিত সময়েই ওপেন এয়ার থিয়েটারে শুরু হয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান।
সমাবর্তন অনুষ্ঠান ও রাজভবনের আপত্তি
রাজ্যের আইন অনুযায়ী, রাজ্যপাল পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং তাঁর উপস্থিতিতে কোর্ট বৈঠক হওয়ার কথা। তবে রাজ্যপাল সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও, তাঁর প্রতিনিধি ডিএন রায় অনুষ্ঠানে অংশ নেন। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত এবং সহ-উপাচার্যের উপস্থিতিতে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে শুরু হয় কোর্ট বৈঠক।
তবে রাজভবন থেকে সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়। রাজ্যপাল এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ট্যাটিউট’ বা বিধি মেনে এই সমাবর্তন আয়োজন করা হয়নি। রাজ্যপাল আরও জানান, কিছুদিনের মধ্যেই স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হবে এবং তাঁর হাতেই সমাবর্তনের দায়িত্ব থাকা উচিত। এত তাড়াহুড়ো করে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে ভবিষ্যতে প্রশ্ন উঠতে পারে।
রাজ্য সরকারের অবস্থান
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু রাজভবনের অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দেন। তিনি এক পোস্টে জানান, রাজ্যপালের অনুমোদন ছাড়াই সমাবর্তন করা আইন লঙ্ঘন নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, সমাবর্তন অনুষ্ঠান যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সমাবর্তনের পরিবেশ
সমাবর্তনের দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন এয়ার থিয়েটারে শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করা হয়। সাম্মানিক ডিলিট বা ডিএসসি এ বছরও দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খড়্গপুর আইআইটি-র প্রাক্তন অধিকর্তা অমিতাভ ঘোষ।
অতীতের বিতর্ক
এটি প্রথমবার নয়, গত বছরও সমাবর্তন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন অন্তর্বর্তী উপাচার্য বুদ্ধদেব সাউ রাজ্য সরকারের অনুমতি নিয়ে সমাবর্তনের আয়োজন করেন, যদিও রাজ্যপাল সেই সময় অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করেছিলেন। সমাবর্তনের আগের রাতে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দিলেও, তিনি রাজ্য সরকারের নির্দেশে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
শিক্ষার্থীদের মনোভাব
সমাবর্তন অনুষ্ঠানের বৈধতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, শিক্ষার্থীরা তাঁদের ডিগ্রি হাতে পেয়ে খুশি। সমাবর্তনের আয়োজন নিয়ে রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, তা দেখার বিষয়। তবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে উভয় পক্ষেরই সচেতন থাকা প্রয়োজন।
উপসংহার
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ঘিরে রাজভবন এবং রাজ্য সরকারের সংঘাত নতুন কিছু নয়। তবে এই বিতর্কের মধ্যে পড়ে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপাল এবং রাজ্য সরকারের উচিত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা।

