মেঘলা আকাশেও উৎসাহে !
বড়দিনের আনন্দে কলকাতা মেতে উঠেছে। সকাল থেকে আকাশে মেঘের আনাগোনা আর বৃষ্টির আভাস থাকলেও শহরের উৎসবমুখর জনতার উদ্দীপনায় কোনও প্রভাব পড়েনি। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, প্রিন্সেপ ঘাট, চিড়িয়াখানা কিংবা পার্ক স্ট্রিট— সর্বত্র ছিল জনসমুদ্র।
ময়দানের প্রাণবন্ত পরিবেশ
ময়দান জুড়ে উৎসবের মেজাজ। পাঁচ-ছয় বছরের খুদেরা ব্যাডমিন্টনের র্যাকেট হাতে ঘাসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। কারও সোয়েটার কোমরে বাঁধা, আবার কেউ তা ফেলে রেখে খেলায় ব্যস্ত। অভিভাবকরা একটু দূরে বসে গল্পে মশগুল। হঠাৎ খুদের কাণ্ড দেখে ছুটে আসেন এক মা। বাচ্চার গায়ে ধুলো ঝেড়ে হাসিমুখে বলেন, “ঠান্ডা তো নেই, সোয়েটার রাখবে কী করে!
ভিড়ে উপচে পড়া চিড়িয়াখানা
বড়দিনের সকালে আলিপুর চিড়িয়াখানায় মানুষের ঢল নামে। টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন আর রাস্তা পারাপারে ছিল হট্টগোল। বনগাঁ থেকে আসা শিশির ভট্টাচার্য বলেন, “ফুট ওভারব্রিজে উঠতে গিয়েই দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ভিতরে কীভাবে বাচ্চাকে সামলাব জানি না।”
ভিক্টোরিয়ায় জমজমাট ভিড়
সকাল থেকেই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের লাইনের দৈর্ঘ্য কয়েকশো মিটার পেরিয়ে যায়। পুলিশের মাইকে বার বার ঘোষণা: “লাইন ছাড়া কেউ ভিড় করবেন না।” তরুণী ফটোগ্রাফার বলেন, “ছবি তোলার জায়গাই পাচ্ছি না। সেজেগুজে বের হলাম, ভালো ছবি তোলা যেন স্বপ্ন হয়ে উঠেছে।”
পার্ক স্ট্রিটের আলো ও আনন্দ
বিকেলের পর থেকে পার্ক স্ট্রিট হয়ে ওঠে উৎসবের কেন্দ্র। বিকেল ৪টার পর থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়, পথচারীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় পুরো এলাকা। সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে আলোর ঝলমলে রোশনাই আর মানুষের উচ্ছ্বাসে পার্ক স্ট্রিট জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ধর্মতলায় প্রতিবাদের ভিন্ন ছবি
উৎসবের আবহে ধর্মতলায় চিকিৎসকদের ধর্না মঞ্চে জনসমাগম হয়। এক মহিলা বলেন, “নির্যাতিতা এখনও বিচার পাননি। বড়দিনে সেই লড়াই ভুলে না যাওয়ার বার্তা নিয়ে এখানে এসেছি।”
ময়দানে পিকনিক ও আড্ডা
ময়দানে পিকনিকের আসর জমে উঠেছিল। কেউ খেলায় মত্ত, কেউবা আড্ডা আর খাওয়াদাওয়ায়। চন্দননগর থেকে আসা শেফালি বর্মা বলেন, “কলকাতায় এলে ময়দান আমাদের আড্ডার সেরা জায়গা। তবে আকাশ যদি একটু পরিষ্কার থাকত, আনন্দ আরও বেড়ে যেত।”
নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা
বড়দিনের ভিড়ে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পার্ক স্ট্রিটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি নজরদারি ছিল। পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকের গোয়েন্দারাও নিরাপত্তার দিকটি নিশ্চিত করতে সক্রিয় ছিলেন। এক পুলিশকর্মী বলেন, “সন্দেহজনক কিছু দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ঝুঁকি নেওয়া হবে না।”
উপসংহার
মেঘলা আকাশ আর সামান্য বৃষ্টির মধ্যেও বড়দিনের আনন্দে ভাটা পড়েনি। পার্ক স্ট্রিটের আলোকসজ্জা, চিড়িয়াখানার উপচে পড়া ভিড় কিংবা ময়দানের প্রাণবন্ত পরিবেশ— সব মিলিয়ে শহরের প্রতিটি কোণে উৎসবের ছোঁয়া। বড়দিন শুধু উৎসব নয়, শহরবাসীর জন্য এটি মিলনের এক অনন্য উপলক্ষ।

