Sunday, November 30, 2025

‘ভূতুড়ে শহর’ হয়ে উঠছে সুদান: ড্রোন হামলায় আফ্রিকায় খুলেছে ‘নরকের দরজা’

Share

‘ভূতুড়ে শহর’ হয়ে উঠছে সুদান!

উত্তর-পূর্ব আফ্রিকার দেশ সুদান আজ যেন লোহিত সাগরের তীরে তৈরি হচ্ছে এক “ভূতুড়ে সভ্যতা”। টানা আড়াই বছর ধরে চলছে ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ, আর তাতে সাম্প্রতিক সংযোজন — সামরিক ড্রোন হামলা
এই পাইলটবিহীন উড়ুক্কু বিমান এখন যেন হয়ে উঠেছে মৃত্যুর দূত, যা মুহূর্তেই ধ্বংস করে দিচ্ছে শহর, হাসপাতাল, স্কুল— এমনকি মানুষের আশা।


🛩️ ড্রোনের ছায়ায় রক্তাক্ত সুদান

বিষয়বিস্তারিত
গৃহযুদ্ধের সূচনা২০২৩ সালের ১৫ এপ্রিল, সরকারি বাহিনী (SAF) ও আধাসামরিক বাহিনী (RSF)-এর সংঘর্ষে
প্রধান নেতাজেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান (SAF) ও জেনারেল মহম্মদ হামদান দাগালো (RSF)
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহরএল ফাশার, পোর্ট সুদান, খার্তুম
মৃতের সংখ্যাআনুমানিক হাজারেরও বেশি, লক্ষাধিক আহত ও বাস্তুচ্যুত
মানবিক সংকটখাদ্য ও জলের অভাব, হাসপাতাল ধ্বংস, শিশু-মৃত্যু বেড়ে চলেছে

⚠️ “নরকের দরজা” খুলে দিয়েছে ড্রোন যুদ্ধ

২০২৫ সালের অক্টোবরের হামলায় এল ফাশার শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া ৫০-এর বেশি নারী ও শিশুর মৃত্যু হয় ড্রোন বিস্ফোরণে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। হাসপাতাল, জ্বালানি ডিপো, এমনকি মসজিদও এখন হামলার লক্ষ্যবস্তু।
জাতিসংঘের সাম্প্রতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, বহু পরিবার এখন বেঁচে আছে পশুখাদ্য ও আবর্জনা খেয়ে


🔥 ড্রোনে বদলে গেছে যুদ্ধের চেহারা

সুদানি সশস্ত্র বাহিনী ও বিদ্রোহীদের হাতে এখন চীনা তৈরি FK-2000 এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন।
বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোনের ব্যবহার শুধু আক্রমণের রূপ পাল্টায়নি, বরং পুরো যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকেই নিয়ন্ত্রণ করছে
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ জানিয়েছে, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যবহৃত ড্রোন এখন পৌঁছে গেছে সুদানের যুদ্ধক্ষেত্রে।


🧱 ‘ভূতের শহর’ আল-ফাশার

এক সময়ের জনবহুল শহর আল-ফাশার আজ প্রায় জনশূন্য।
মানুষ এখন মাটির বাঙ্কার খুঁড়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছে। বাজার, হাসপাতাল, স্কুল — সব কিছুই ধ্বংসস্তূপে পরিণত।
দেখে মনে হয়, সুদান যেন আফ্রিকার নতুন ভূতুড়ে মরুভূমি, যেখানে প্রতিদিনই খুলে যাচ্ছে মৃত্যুর নতুন অধ্যায়।


🌍 বিশ্বের উদ্বেগ ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতিমধ্যে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত শুরু করেছে, যদিও ফলাফল অনিশ্চিত।
জাতিসংঘ জানায়, প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এখন নিয়মিত খাবার পাচ্ছেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ড্রোন যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে আফ্রিকার এই অঞ্চল আর কখনও আগের মতো হবে না।


🔗 আরও পড়ুন TechnoSports বাংলা থেকে:


🕊️ শেষ কথা

সুদান আজ কেবল এক গৃহযুদ্ধের দেশ নয়— এটি মানবসভ্যতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি।
ড্রোন প্রযুক্তি যখন উন্নতির প্রতীক, তখনই তা মানবতার ধ্বংসযন্ত্রে পরিণত হচ্ছে
লোহিত সাগরের তীরে এই যুদ্ধ যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় —
প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানবতা হারালে সভ্যতাও ভূতুড়ে হয়ে যায়।

Read more

Local News