ভুখা পেটে ‘শয়তানি’!
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচে ইউরোপ জুড়ে যখন খাদ্যসঙ্কট, তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল ভারত। নয়াদিল্লি তুরস্কে পাঠায় ৫৫ হাজার টন উচ্চমানের গম, যাতে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার পৌঁছায়। কিন্তু, বিস্ময়করভাবে সেই গম ফিরিয়ে দেয় আঙ্কারা— কারণ, নাকি গমে ভাইরাস আছে! কিন্তু সত্যিই কি তাই ছিল?
🧺 ইউরোপের ‘রুটির ঝুড়ি’ পুড়ছে, পাশে দাঁড়ায় ভারত
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনের গম রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তুরস্কের বাজারে রুটির দাম আকাশছোঁয়া হয়ে ওঠে। খাদ্য সংকটে পড়ে দেশটি। এই অবস্থায় মানবিক সাহায্য হিসাবে ভারত পাঠায় আইটিসি লিমিটেডের মাধ্যমে গমবোঝাই জাহাজ।
কিন্তু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তায়িপ এর্ডোয়ান দাবি করেন, ভারতীয় গমে “রুবেলা ভাইরাস” রয়েছে, যা নাকি বিপজ্জনক! ফলে তুরস্কের বন্দরে পৌঁছেই আটকে দেওয়া হয় সেই জাহাজ।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| পাঠানো দেশ | ভারত |
| প্রাপক দেশ | তুরস্ক |
| পরিমাণ | ৫৫,০০০ টন |
| অভিযোগ | ‘রুবেলা ভাইরাস’ |
| প্রকৃত ফলাফল | পরীক্ষায় ভাইরাসের প্রমাণ মেলেনি |
🔬 গমে ভাইরাস নয়, রাজনীতি ছিল মুখ্য
পরীক্ষার জন্য গম পাঠানো হয় সুইস গবেষণাগারে। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়— গমের গুণমান ভালো, কোনো ভাইরাস নেই। উদ্ভিদবিদেরা জানান, রুবেলা মূলত মানবদেহে ছড়ায়, ফসলে নয়। অর্থাৎ, তুরস্কের অভিযোগ পুরোপুরি রাজনৈতিক।
তবে এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল আইটিসি, কারণ গমবোঝাই জাহাজ আটকে থাকা মানেই প্রতিদিন ক্ষতি। তখনই ভারতের “বন্ধু” ইজরায়েল এগিয়ে আসে। কোনো প্রশ্ন না করে পুরো গম কিনে নেয় তেল আভিভ। একরকমে দূতাবাস স্তরে বন্ধুত্বের প্রতীকী প্রমাণ দেয় এই ঘটনাই।
🌾 তুরস্কের ‘শয়তানি’র ফল: খাদ্যসঙ্কট আরও বেড়ে যায়
ভারতের গম না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তুরস্কে খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার নেয়। রুটির দাম কয়েকগুণ বাড়ে, মুদ্রাস্ফীতি ছুঁয়ে যায় ৩৩ শতাংশ। পরে রাশিয়া ও ইউক্রেন—দু’দেশ থেকেই গম আনার চেষ্টা করে এর্ডোয়ান সরকার, কিন্তু যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার জেরে সফল হয় না।
ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে দেশটির অর্থনীতি। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভান্ডার (IMF) পর্যন্ত শরণাপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
🤝 মানবিকতায় ভারতের জয়
অদ্ভুত বিষয় হলো, গম ফিরিয়ে দিলেও ২০২৩ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের সময় ভারতই প্রথম ত্রাণ পাঠায় তুরস্কে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নির্দেশে শুরু হয় ‘অপারেশন দোস্ত’, যেখানে ভারতীয় সেনা ও এনডিআরএফ বিপুল সাহায্য পৌঁছে দেয়।
তবুও আঙ্কারার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা দেখা যায়নি; বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তারা ফের পাকিস্তানের পক্ষ নেয়।
🔗 আরও পড়ুন
- মীরা নায়ারের ছেলে জোহরান মামদানি, নিউ ইয়র্কের নতুন মেয়র! – বিশ্বজুড়ে আলোচিত ভারতের মাটির সন্তান
- অভিনেত্রী মেয়েকে শাসন করলেন শাহরুখ! – জন্মদিনেও মজার মুহূর্তে শাসনের ছোঁয়া
- অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৩০টি পুশ আপ! – রাজনীতিতেও এখন ফিটনেস ট্রেন্ড
ভারতীয় গম ফিরিয়ে তুরস্ক নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছিল—এটা ইতিহাসে প্রমাণিত। আজ বিশ্ব জানে, মানবিকতার লড়াইয়ে ভারত জয়ী এবং সংকটে পাশে দাঁড়ানোই তার আসল শক্তি।

