Monday, December 8, 2025

ভাতারে বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে ‘লুঠের পর নতুন তালা’, দুষ্কৃতীদের চম্পটের পর বেরিয়ে এল দুর্গন্ধ

Share

বৃদ্ধ দম্পতির ঘরে ‘লুঠের পর নতুন তালা

পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে একটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে এসেছে, যা শুধু স্থানীয়দের নয়, গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। একটি বৃদ্ধ দম্পতির খুনের পর ঘরের দরজায় নতুন তালা লাগানোর রহস্যে এখন পুলিশ ব্যস্ত তদন্তে। লুটপাটের পর খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ প্রকাশ করছে তদন্তকারীরা। মৃত্যুর পর মৃতদেহ থেকে বেরিয়ে আসা দুর্গন্ধই এলাকার মানুষকে পুলিশের কাছে নিয়ে আসে, যারা পরে ঘরের তালা ভেঙে উদ্ধার করে দম্পতির নিথর দেহ।

এটি ছিল ভাতারের রবীন্দ্রপল্লী এলাকার এক নির্জন বাড়ি, যেখানে অভিজিৎ যশ এবং তার স্ত্রী ছবিরাণী যশ একা বসবাস করতেন। দুজনেই নিঃসন্তান ছিলেন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক খুব একটা গভীর ছিল না। শুক্রবার তাদের শেষবার আত্মীয়দের সঙ্গে কথা হয়, এরপর তাদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। এর পরের দিন, বাড়ি থেকে আসতে থাকে অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ, যা এলাকার লোকদের সন্দেহের সৃষ্টি করে। তারা পুলিশকে খবর দেয়, এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের বাইরে নতুন করে লাগানো তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘরটি সম্পূর্ণ লুটপাট করা হয়েছে। বাড়ির আসবাবপত্র উলটে-পালটে দেওয়া হয়েছিল, এবং সন্দেহ করা হচ্ছে যে, দম্পতিকে বাধা দেওয়ার জন্য বা লুটপাটের সময়ে তারা খুন হতে পারে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা পরিকল্পনা করে নতুন তালা কিনে আনতে পারে, যাতে তারা লুটপাটের পর ঘরটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দিতে পারে এবং সন্দেহ থেকে বাঁচতে পারে।

এদিকে, পুলিশ সুপার সায়ক দাসের নেতৃত্বে একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং তদন্তে নেমে যায়। সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশের নজরে রয়েছে কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, তবে এই মুহূর্তে কোনও সন্দেহভাজনকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ কুকুরের সাহায্যে ঘটনাস্থলে তদন্ত চালানো হচ্ছে, এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর দাম্পত্য খুনের ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া, পুলিশ স্থানীয়দের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করছে, যাতে হত্যার মোটিভ এবং দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা যায়। এমনকি, কিছু প্রতিবেশী জানাচ্ছেন যে, কয়েক দিন ধরে বাড়ির আশপাশে অস্বাভাবিক কিছু কার্যকলাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল, তবে কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি।

এই মর্মান্তিক ঘটনা পূর্ব বর্ধমানের ইতিহাসে এক ভিন্ন ধরনের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মানুষ খুনের পরও আস্তে আস্তে নতুন তালা লাগিয়ে চলে যেতে পারে। দুষ্কৃতীরা কি এতটাই অপরাধবোধহীন হয়ে উঠেছে যে, তারা খুনের পরও নিজেদের নিরাপদ মনে করে ঘরের বাইরে তালা লাগিয়ে চম্পট দেয়?

এ ঘটনায় আবারও প্রশ্ন ওঠে—এ ধরনের অপরাধের জাল কীভাবে এড়িয়ে চলে যাচ্ছে, এবং স্থানীয় প্রশাসন কোথায় ভুল করছে। পাশাপাশি, পুলিশের কাছে এখনও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আসেনি, যা দ্রুত ঘটনাটির মূল রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে।

এদিকে, এই হত্যাকাণ্ডের পর আরও একটি ভীতিকর ঘটনা উঠে এসেছে কলকাতার গলফগ্রিন এলাকার কাছ থেকে। সেখানে এক মহিলার মাথা উদ্ধার হয় এবং তদন্তে জানা যায়, খুনের পিছনে তার ভগ্নিপতির হাত ছিল। একের পর এক হত্যার ঘটনা পুলিশ এবং প্রশাসনের কার্যকলাপের ওপর এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ফেলে দিচ্ছে, এবং কিভাবে এসব ঘটনার সমাধান হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি পুলিশের পক্ষে সবসময় কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে, আশা করা হচ্ছে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হবে এবং তারা আইনের আওতায় আসবে।

Read more

Local News