Monday, December 8, 2025

ব্রহ্মপুত্রের বুক জুড়ে অসমের সাত মন্দির: জলপথে পর্যটনের নতুন দিগন্ত

Share

ব্রহ্মপুত্রের বুক জুড়ে অসমের সাত মন্দির

অসমের পর্যটনে এক নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের বুকেই এবার জুড়ে দেওয়া হবে সাতটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। কামাখ্যা থেকে শুরু করে উমানন্দ মন্দির পর্যন্ত এই সাত দেবস্থানকে সংযুক্ত করবে এক নতুন জলপথ। পর্যটকদের জন্য এটি হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা। অসম সরকারের পরিকল্পনামাফিক, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটনশিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং খরচ

অসম সরকার ইতিমধ্যেই প্রকল্পটি অনুমোদন করেছে। কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ ও জলপথ মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও সাগরমালা প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগের সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৬৪৫.৫৬ কোটি টাকা। ব্রহ্মপুত্র নদে জলপথ সম্প্রসারণ এবং যাত্রী পরিবহণের পরিকাঠামো তৈরির কাজ শুরু হতে আর দেরি নেই।

কোন মন্দিরগুলো থাকবে তালিকায়?

১. কামাখ্যা মন্দির:
অসমের গুয়াহাটিতে নীলাচল পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই মন্দিরটি ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম। তন্ত্র সাধনার পীঠস্থান হিসেবে কামাখ্যা মন্দিরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। এখানে প্রতি বছর অম্বুবাচীর সময়ে লক্ষাধিক ভক্ত ভিড় করেন। অহোম রাজাদের আমলে নির্মিত এই মন্দিরের স্থাপত্যশৈলী নিম্ন অসমের ঐতিহ্যবাহী মন্দির স্থাপত্যের প্রতীক।

২. পাণ্ডুনাথ মন্দির:
তিলা পাহাড়ে অবস্থিত পাণ্ডুনাথ মন্দিরের নামকরণ মহাভারতের পাণ্ডবদের নামেই। কথিত আছে, পাণ্ডবরা ছদ্মবেশে এখানে আত্মগোপন করেছিলেন। মন্দিরে পাঁচটি গণেশ মূর্তি রয়েছে, যা পাণ্ডবদের প্রতিনিধিত্ব করে।

৩. অশ্বক্রান্ত মন্দির:
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত এই মন্দিরটির আরাধ্য দেবতা কৃষ্ণ। রাজা শিব সিংহ এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। কথিত আছে, নরকাসুরকে বধ করার সময় কৃষ্ণের অশ্ব বা ঘোড়াগুলি এখানে বিশ্রাম নিয়েছিল। তাই মন্দিরটির নাম অশ্বক্লান্ত।

৪. দোল গোবিন্দ মন্দির:
চন্দ্রভারতী পাহাড়ের উপরে অবস্থিত দোল গোবিন্দ মন্দির কৃষ্ণের আরাধনালয়। প্রায় দেড়শো বছরের পুরনো এই মন্দিরটি ১৯৬৬ সালে পুনর্নির্মাণ করা হয়। দোলযাত্রার সময়ে এই মন্দিরে বিশেষ উৎসব হয়, যা পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

৫. উমানন্দ মন্দির:
ব্রহ্মপুত্রের মধ্যে অবস্থিত একটি পাহাড়ি দ্বীপে শিবের আরাধনালয় উমানন্দ মন্দির। নৌকাযোগে এই মন্দিরে পৌঁছতে হয়। কামাখ্যায় দেবীর পুজোর পর ভৈরবের পুজো করতে উমানন্দে যাওয়া হয় বলে কথিত রয়েছে। মন্দির থেকে ব্রহ্মপুত্রের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

৬. চক্রেশ্বর মন্দির:
ব্রহ্মপুত্র নদের ধারেই অবস্থিত চক্রেশ্বর মন্দির শিবের আরাধনার জন্য পরিচিত।

৭. আউনিয়াতি সত্র:
অহোম রাজা জয়ধ্বজ সিংহ ব্রহ্মপুত্রের মাজুলি দ্বীপে এই সত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। মঠের ভিতরে কৃষ্ণমূর্তি বিরাজমান।

পর্যটনের সম্ভাবনা

অসমের এই সাত মন্দিরকে জলপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা পর্যটকদের কাছে এক নতুন অভিজ্ঞতা এনে দেবে। ব্রহ্মপুত্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মন্দির দর্শনের সুযোগ হবে একসঙ্গে।

ভবিষ্যতের দিশা

এই প্রকল্প শুধু পর্যটনশিল্প নয়, অসমের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরবে। ব্রহ্মপুত্রের বুকে ভেসে সাত মন্দিরের দর্শন অসমের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মেলবন্ধন হিসেবে প্রমাণিত হবে।

Read more

Local News