Monday, December 8, 2025

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ভাড়া নিয়ে’ চলছে সাইবার প্রতারণা: বেআইনি ‘পেমেন্ট গেটওয়ে’-র উদ্ভব

Share

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারণা

সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণার একটি নতুন চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, যেখানে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা বেড়ে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যে জনগণকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। সাইবার অপরাধীরা সাধারণত নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করে অন্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর নির্ভরশীল থাকে। এটি ধরা পড়ার সম্ভাবনা কমাতে কার্যকরী হয়।

এই ‘ভাড়া নেওয়া’ অ্যাকাউন্টগুলি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, বিশেষত ফেসবুক ও টেলিগ্রাম, ব্যবহার করে খোঁজ করা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, এই ধরনের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারকেরা বেআইনি ‘পেমেন্ট গেটওয়ে’ তৈরি করেছে। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টারের পক্ষ থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার

সাইবার অপরাধীরা সাধারণত ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া নিয়ে সেগুলি ব্যবহার করে। একটি উদাহরণ হিসেবে ধরুন, যদি একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ক’ নামের কোনও ব্যক্তির নামে থাকে, তবে ‘খ’ নামের এক ব্যক্তি সেটিকে ব্যবহার করে। প্রতারকেরা এই অ্যাকাউন্টগুলি ভাড়া নেয় এবং তার বিনিময়ে প্রকৃত মালিককে কিছু অর্থ প্রদান করে। এইভাবে, সমস্ত লেনদেন প্রতারকদের দখলে চলে যায়।

প্রতারণার কারণে উৎপন্ন অর্থের অঙ্ক উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সঞ্চিত অর্থ দেশের মোট জিডিপির প্রায় ০.৭ শতাংশ। ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার জানিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় চার হাজার ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করা হচ্ছে।

বেআইনি ‘পেমেন্ট গেটওয়ে’ নির্মাণ

প্রতারকেরা এই ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বেআইনি পেমেন্ট গেটওয়ে তৈরি করেছে। বিভিন্ন অনলাইন লেনদেনের মাধ্যমে যেমন লগ্নির ভুয়ো ওয়েবসাইট, অনলাইন জুয়ার ভুয়ো ওয়েবসাইট এবং শেয়ার কেনাবেচার ভুয়ো মাধ্যম ব্যবহারের জন্য এই পেমেন্ট গেটওয়ে কাজে লাগানো হচ্ছে। যখন কেউ এই ধরনের কোনো ফাঁদে পড়েন, তখন তাদের অর্থ দ্রুত সাইবার প্রতারকদের ভাড়া নেওয়া অ্যাকাউন্টে চলে যায়।

এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক উল্লেখ করেছে, জালিয়াতেরা ‘পিস পে’, ‘আরটিএক্স পে’, ‘পোকো পে’, ‘আরপি পে’-এর মতো ভুয়ো পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করছে। এসবের মাধ্যমে প্রতারণার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে, যা সত্যিকার অর্থেই ভয়ের।

সাইবার নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা

সরকারের তরফ থেকে এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজের সাধারণ মানুষকে নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিরাপদে রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। যে কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অপরিচিত উৎস থেকে আসা লেনদেনের বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এছাড়া, পুলিশ এবং অন্যান্য তদন্তকারী সংস্থাগুলির হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কাজ করা হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণকে সচেতন করার জন্য সরকারের তরফে নানা প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অতএব, সাইবার জালিয়াতির এই নতুন পন্থার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন এবং সতর্ক থাকতে হবে।

Read more

Local News