বেআইনি নির্মাণের রমরমা
কলকাতার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুশান্ত ঘোষ সম্প্রতি গুলি হামলার শিকার হয়েছেন। এই ঘটনায় এক নতুন প্রশ্ন উঠে এসেছে— কি তবে এর পেছনে রয়েছে জমি-বাড়ি সংক্রান্ত সিন্ডিকেট বা রাজনীতির হাত? সুশান্তের দাবি, শুধুমাত্র তাঁর ওয়ার্ডেই নয়, গোটা কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ চলছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, সুশান্ত নিজে কি এসব বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছেন?
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, যিনি পুর বিল্ডিং দফতরের দায়িত্বে আছেন, এসব বেআইনি নির্মাণের বিষয়ে কিছুটা আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “বাম আমলে অনেক বেআইনি নির্মাণ হয়েছিল। গার্ডেনরিচে বেআইনি বাড়ি ভেঙে পুরসভা এখন আরও কঠোর নিয়মকানুন প্রয়োগ করছে।” তবে তিনি যে বেআইনি নির্মাণ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি, তা মানতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের এলাকার একটি বড় অংশে বেআইনি নির্মাণ চলছে। এসব নির্মাণের কারণে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। গত বছর মার্টিনপাড়ায় একটি বাড়ির ছাদে পাইপ বসানোর কাজ করতে গিয়ে এক যুবক হাইটেনশন তারে স্পর্শ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ওই যুবকের মৃত্যুর কারণ ছিল অবৈধভাবে নির্মিত বহুতল, যার কারণে হাইটেনশন তার বিপজ্জনকভাবে বাড়ির পাশ দিয়ে গিয়েছিল।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও সুশান্ত গোষের দাবি, তিনি দুই বছর আগেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে কোনো বেআইনি নির্মাণ হচ্ছে না। তবে কিছু নির্মাণ কাজ এর আগে হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, যেসব বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলোর অনেকটাই ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত শুক্রবারও এমন একটি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
ফিরহাদ হাকিমও এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু পুরপ্রতিনিধির ক্ষমতায় এসব নির্মাণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। এসব নির্মাণের তদারকি পুরসভার বিল্ডিং দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ।” তিনি আরও বলেন, “এমন নির্মাণের নির্দিষ্ট ঠিকানা দিলে আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলছি, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের চাকরি চলে যাবে।”
তবে প্রশ্ন উঠছে, যদি এইসব বেআইনি নির্মাণের ঘটনা পুরসভায় রিপোর্ট করা হয়ে থাকে, তবে কী কারণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই বিষয়ে সুশান্তের দাবি, ২০২১ সালের আগে কোনো অভিযোগ তাঁকে জানানো হয়নি। তবে তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং সেগুলোর অনেকটাই সমাধান করা হয়েছে।
বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরসভা যতই কঠোর ব্যবস্থা নিক না কেন, বাস্তবে যে পরিস্থিতি চলমান রয়েছে, তা সুশান্তের দাবি মেনে শহরবাসীর মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি করেছে। লোকজন অভিযোগ করছেন, যেখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে রাজনীতি ও গোষ্ঠীস্বার্থের কারণে এসব নির্মাণ কেন বন্ধ করা হচ্ছে না?

