বিজ্ঞাপনী ছবিতে প্রথম কাজেই মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়
শীতের আগমনের সঙ্গে বিনোদন জগতে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অভিনেত্রী মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ বিরতির পর বিজ্ঞাপনী ছবিতে নতুনভাবে দর্শকদের সামনে আসছেন তিনি, যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পরিচালক অভিজিৎ শ্রী দাস। তিনি বললেন, “তরুণ মজুমদারের হাত ধরে মৌসুমীদি অভিনয়ে আসেন। আর এই প্রথমবার আমি তাঁকে বিজ্ঞাপনী ছবিতে আনতে পেরে গর্বিত।” এই ছবিতে তাঁর সঙ্গী সোনাক্ষী সিংহ। বিজ্ঞাপনী ছবিতে এমন বিশেষ অতিথি হিসেবে মৌসুমীজি অভিনয়ে ফিরলেন, যেখানে সোনাক্ষীকে দেখা যাবে রান্নার শো-এর সঞ্চালিকা হিসেবে।
ছবির সেটে মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় যেন ফিরে পেয়েছেন পুরনো উচ্ছ্বাস। হাসি, রসিকতা আর প্রাণবন্ত উপস্থিতি আজও অনবদ্য। পরিচালক জানালেন, “মৌসুমীদি নিজেই বললেন তাঁকে যেন মজার, ঘরোয়া চরিত্রে সুযোগ দেওয়া হয়। তবেই তিনি আগের মতো প্রাণবন্তভাবে অভিনয়ে ফিরতে পারবেন।” ছবির শ্যুটিংয়ে সোনাক্ষীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটাও বেশ মজার ছিল। মৌসুমীদির প্রতিটি কথায় সোনাক্ষীর হাসি, মজা আর খুনসুটি ছিল দৃশ্যপটে প্রাণবন্ত।
সিনেমাটিক সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য দুই অভিনেত্রীর সাজসজ্জাও ছিল মনোমুগ্ধকর। মৌসুমীকে দেখা যাবে সোনালি ও পিচ রঙের টিস্যু শাড়িতে, আর সোনাক্ষীকে লাল রঙের পাশ্চাত্য পোশাকে। অভিজিৎ বললেন, “এ ছবিতে দুই প্রজন্মের মেলবন্ধন দেখে কাজ করতে দারুণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। মুম্বইয়ে এমন সৌহার্দ্যের পরিবেশেই কাজ করা আনন্দের।”
শুটিংয়ে মৌসুমীর হাসি আর প্রাণোচ্ছ্বল ভাব সবার নজর কাড়লেও জীবনের কঠিন সময়গুলোর ছাপও তাঁর চোখেমুখে ফুটে উঠেছে। মেয়ে হারানোর শোক থেকে বেরিয়ে নতুন উদ্যমে কাজ করতে চাওয়ার ইচ্ছা তাঁর। পরিচালকের কথায়, “মৌসুমীদি ‘বালিকা বধূ’ থেকে ‘গয়নার বাক্স’—এখনও আগের মতোই খবরের কাগজ পড়েন, খবর দেখেন। দুই বাংলার পরিস্থিতি নিয়েও ভাবনা তাঁর মধ্যে কাজ করে।”
এখন মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়ের দিন শুরু হয় ধীরেসুস্থে। সকালে পুজো সেরে দিন শুরু করেন। রাজনীতিতে ফেরার কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে অভিজিৎ বললেন, “ওঁর ইচ্ছা হলে করবেন, তবে আপাতত অভিনয়ে ফিরেই সুখী মৌসুমীদি।”

