বাজি ফাটানোর প্রতিবাদ
এবারের দীপাবলির আনন্দের সঙ্গে যোগ হলো একটি অস্বস্তিকর ঘটনা। শব্দবাজির ব্যাপক তাণ্ডবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনায় মাথা ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের হাতে নাজেহাল হয়েছেন সায়ন কুণ্ডু নামের ওই যুবক। এই ঘটনায় এন্টালি থানার পুলিশ সোমবার দু’জনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, সায়ন কুণ্ডু এন্টালি থানার আনন্দ পালিত রোডের বাসিন্দা। তাঁর পরিবারে বাবা-মা ও এক দাদা রয়েছেন। সায়ন জানাচ্ছেন, রবিবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর বাড়ির সামনে বেআইনি বাজি ফাটানো চলছিল। রবিবার প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সেই বাজির তাণ্ডব মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। সায়নের অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় কয়েকজন যুবক গলিতে বাজি ফাটাতে শুরু করে।
“আমার মা-বাবা দুজনেই অসুস্থ। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাজির শব্দে ওঁদের সমস্যা হচ্ছিল। তাই মা গলিতে বাজি ফাটাতে নিষেধ করেন। কিন্তু এতে দুষ্কৃতীরা আরও উন্মত্ত হয়ে ওঠে,” বলেন সায়ন। তিনি জানান, মারধরের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। প্রতিবাদ জানাতে সায়ন বাইরে বেরিয়ে আসলে অভিযুক্তরা তাঁকে ঘিরে ধরে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। চিৎকার শুনে সায়নের বাবা বেরিয়ে এলে তাঁকেও ধাক্কা মারে দুষ্কৃতীরা। এতে সায়নের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে, এবং পরে তিনি বাড়িতে পালিয়ে যান।
পুলিশে অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করলেও প্রথমে সায়নের অভিযোগটি নেওয়া হয়নি। বরং, পুলিশ উভয়পক্ষকে বসে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে, সায়নের বাবা যতীন কুণ্ডু জানান, অনেক চাপের পর প্রথমে একটি জিডি করা হয়, তারপর এফআইআর গ্রহণ করা হয়।
সায়নের অভিযোগের ভিত্তিতে এন্টালি থানার পুলিশ সোমবার সকালে ঘটনাটি তদন্তে নেমে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম সুজয় রায় ও রাজু রায়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, “আমরা বিষয়টির গভীর তদন্ত করছি এবং যারা জড়িত তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
একই দিন, গল্ফ গ্রিন থানার এলাকা থেকেও অনুরূপ একটি ঘটনার খবর এসেছে। সেখানে বেআইনি বাজি ফাটানোর প্রতিবাদ জানানোয় এক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ব্যক্তিও গল্ফ গ্রিন থানায় ইমেল করে অভিযোগ জানান। তবে পরে জানা গেছে, দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে নেয়।
শব্দবাজির এই বেলাগাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এই ঘটনা সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সায়নের মতো অনেকেই এই শব্দদূষণের শিকার হচ্ছেন। অনেকেই আবার এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সামাজিক নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
একদিকে দীপাবলির আনন্দ, অন্যদিকে এই ঘটনার কারণে শহরের পরিবেশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠছে। সায়নের মতো যারা প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে অন্যদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো প্রয়োজন। সমাজের একাংশের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়াতে হবে। কারণ, সামগ্রিক সামাজিক স্বাস্থ্যের জন্যই নিরাপদ পরিবেশ জরুরি।

