বাইপাসের ধারে নাইট ক্লাবে শ্লীলতাহানি!
কলকাতা আবারও চাঞ্চল্যে—কারণ ১৩ বছর আগে আলোচিত পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার দোষী নাসির খান-এর নাম এবার জড়িয়েছে নতুন এক শ্লীলতাহানির অভিযোগে। সূত্র অনুযায়ী, রবিবার রাতে বাইপাসের ধারের এক নামী হোটেলের নাইট ক্লাবে এক যুবতীকে যৌন হেনস্থা করেছেন নাসির ও তাঁর সঙ্গী জুনায়েদ খান। ঘটনায় বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ‘নির্যাতিতা’।
🕒 ঘটনাটি কীভাবে ঘটল?
| সময় | স্থান | অভিযোগকারীর বক্তব্য |
|---|---|---|
| ২৬ অক্টোবর রাত | বাইপাসের ধারের এক হোটেলের নাইট ক্লাব | স্বামীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন যুবতী। নাসির ও জুনায়েদ তাঁকে শ্লীলতাহানি করেন। |
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা তিলজলার বাসিন্দা। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত নাসিরই পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার দোষী ছিলেন। সেই তথ্য মেলে যাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে তদন্তকারী সংস্থা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১৫(২), ১১৭(২), ১২৬(২), ৩(৫), ৩৫১(২) এবং ৭৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁদের নোটিস পাঠানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।
⚖️ পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডে নাসিরের ভূমিকা
| বছর | ঘটনা | ফলাফল |
|---|---|---|
| ২০১২ | পার্ক স্ট্রিটে সুজেট জর্ডনকে গণধর্ষণ | রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় |
| ২০১৫ | আদালতের রায় | পাঁচ জন দোষী সাব্যস্ত |
| ২০২৩ | সাজা ভোগের পর মুক্তি | পুনরায় মুক্ত নাসিরের নাম এখন ফের আলোচনায় |
২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি, পার্ক স্ট্রিটের এক পানশালায় সুজেট জর্ডন নামে এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। অভিযুক্ত নাসির-সহ পাঁচ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এক দশক পর মুক্ত নাসির ফের একই ধরনের অভিযোগে ধরা পড়েছেন।
📰 পুলিশি তদন্তে কী এগোচ্ছে?
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন—
- অভিযোগকারী যুবতীর সঙ্গে নাসিরের পূর্বপরিচয় ছিল কি না,
- ক্লাবে আসলে কী ঘটেছিল,
- নজরদারি ফুটেজে কী দেখা যাচ্ছে।
কলকাতা পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রমাণ মেললে পুনরায় নাসিরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
🔗 আরও পড়ুন
- দুর্গাপুরে গণধর্ষণ কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
- শরীরচর্চার ভুলে হরমোন বিঘ্নিত: কীভাবে ঠিক রাখবেন ফিটনেস রুটিন
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে—দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও কি পর্যাপ্ত পুনর্বাসন ও নজরদারির অভাব থেকেই এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি? সমাজের কাছে এটি শুধু একটি অপরাধ নয়, বরং নারীদের নিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার আরেকটি বড় পরীক্ষা।

